অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন: দামি সেটে ঝুঁকি বেশি

অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা দামি সেটগুলোতে। তাই ঝামেলা এড়াতে ফোন কেনার সময় অনেককেই যাচাই-বাছাই করে নিতে দেখা গেছে। কম দামি সেটের চেয়ে বেশি দামি ফোন সেটে এ সমস্যা বেশি হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, কয়েকটি ব্র্যান্ডের দামি সেট ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয় না। কারণ ওই দামি সেটগুলোর জন্য অনেক বেশি ট্যাক্স দিতে হয়। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তারা এই সেটগুলো আমদানি করে থাকেন। ফলে গ্রাহকরাও কম দামে পান।

শুক্রবার থেকে অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সরকারের এমন ঘোষণার পর ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে। বিটিআরসির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গ্রাহকরা অনেকেই জানতে চাইছেন, কোন ফোন বন্ধ হবে, কবে থেকে বন্ধ হবে, কী করণীয় ইত্যাদি।

শুক্রবার রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনে ক্রেতাদের বেশ আনাগোনা। প্রায় প্রতিটি দোকানের সামনেই রয়েছে ক্রেতা উপস্থিতি। অনেকেই ঘুরে ঘুরে দাম দেখছেন। কেউ আবার ফোনের আইএমইএ যাচাই করছেন। মো. আলী রিপন নামে এক ক্রেতা বলেন, আমি ট্যাব কিনতে এসেছি। ভিভো অফিসিয়াল শোরুম থেকে কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে দাম বেশি চায় এজন্য এলজি থেকে নিয়েছি। আইএমই নম্বর যাছাই করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, করা হয়নি। শোরুম থেকে বলা হয়েছে ফোনে কোনো সমস্যা নেই। তারা নিশ্চিত করেছে। ভিভো মোবাইল ফোনের বিক্রয় কেন্দ্রের ব্র্যান্ড অ্যাডভাইজর আজহারুল ইসলাম বলেন, গত জুলাই মাসে যখন এমন একটি ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল তখন থেকেই গ্রাহকরা অফিসিয়াল ফোনের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। আজ অনেকেই নিবন্ধন ঠিক আছে কি না তা যাছাই করে ফোন কিনছেন।

সামস্যাং শোরুমের ব্র্যান্ড প্রমোটর রাকিব হোসেন বলেন, আজকে তুলনামূলক বিক্রি কম। কাস্টমাররা একটু সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। যারাই আসছেন তারাই ফোনের আইএমই নম্বর যাচাই করে নিচ্ছেন। ডিজি এন্টারপ্রাইজের (হাইম্যাক্স ব্র্যান্ড) মালিক দিদার হোসেন বলেন, কাস্টমাররা যাচাই-বাছাই না করে ফোন কিনলে হয়রানি বা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদিও এবার বিটিআরসি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। এ সমস্যাগুলো সাধারণত স্যামসাং, আইফোন, অপো, ভিভো, এমআই এই কয়েকটি ব্র্যান্ডের ছাড়া অন্য ফোনে হয় না। কারণ এসব ব্র্যান্ডের সেটগুলো দামি, অনেক বেশি ট্যাক্স দিতে হয়। এ কারণে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তারা এই সেটগুলো আমদানি করেন, কাস্টমাররাও কম দামে পান।

বিটিআরসির কমিশনার একেএম শহিদুজ্জামান সময়ের আলোকে বলেন, ‘যেসব ফোন রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা হয়েছে সেগুলো অবৈধ। এই অবৈধ ফোন যখন চালু করতে যাবে তখন গ্রাহকের কাছে বিটিআরসির সিস্টেম থেকে মেসেজ চলে যাবে। সেখানে জানানো হবে, ‘আপনার ফোনটি বৈধ নয়, তাই নবায়ন করা যাচ্ছে না, যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ তখন ওই গ্রাহক যেখান থেকে মোবাইল কিনেছেন সেখান থেকে পাল্টে আনতে হবে অথবা টাকা ফেরত আনতে হবে। তবে কোনো গ্রাহক হয়রানি হবে না। তিনি বলেন, কালকে (আজ) থেকে যারা নতুন মোবাইল কিনবেন সেটি যদি বৈধ না হয় শুধু তার কাছেই মেসেজ যাবে, এটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে না। কত সময় বা কদিন পর এটি বন্ধ হবে এর কোনো নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা হয়নি। আমরা গ্রাহক ও দোকানদার সবাইকে সুযোগ দিতে চাই। আমরা ভেন্ডর ও ম্যানুফ্যাকচারারদের সঙ্গেও মিটিং করেছি। এ ছাড়া গ্রাহকদের সচেতন করতে ক্যাম্পেইন করব।

উল্লেখ্য, মোবাইল ফোন কেনার আগে গ্রাহকরা মেসেজ অপশন থেকে KYD ও ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর লিখে (উদাহরণ- KYD 123456789012345) ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে বৈধতা যাচাই করে নিতে পারেন।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here