মেহেরপুরে ঘন্টাব্যাপী প্রধান সড়ক অবরোধ ইজিবাইক চালকদের

0
1878

মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মেহেরপুর কাথুলী সড়কের মনোহরপুরে বাস মালিক সমিতির লাঠিয়াাল বাহিনী সদস্যদের নির্যাতনে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের এক ইজিবাইক চালক আহত ও তার ইজিবাইক ভাংচুরের প্রতিবাদে অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে ইজিবাইক চালকরা।
তবে মালিক সমিতির দাবি তাদের গাড়ি চালককেও ইজিবাইকর চালকরা মারধর করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২ টা থেকে ঘন্টাব্যাপী মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সামনে শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশে ইজিবাইক রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এসময় তারা বাস মালিক সমিতির লাঠিয়াল বাহিনীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লগান দেয় এবং পকেট সড়কগুলোতে ইজিবাইক চালাতে দেওয়ার দাবি জানায়।
তাদের দাবি নিয়ে জেলা ইজিবাইক মালিক চালক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত লাঠিয়াল রনিকে গ্রেপ্তার ও সব সড়ক থেকে লাঠিয়াল বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানায়। অন্যাথায় বৃগত্তর কর্মসূচী ঘোষনা করবে বলে জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
এদিকে অবরোধ চলাকালীন দুপুর ১ টার দিকে মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছে অবরোধ তুলে দেয়। এসময় ইজিবাইক চালকরা সড়ক থেকে ইজিবাইক সরিয়ে নিলে চলাচলা স্বভাবিক হয়।
নির্যাতিত ইজিবাইক চালক জাহাঙ্গীর জানান, মঙ্গলবার বিকালে কাথুলী থেকে সাত জন যাত্রী নিয়ে মেহেরপুরে আসছিলেন। মনোহরপুর গ্রামে পৌছালে বাস মালিক সমিতির অবৈধ লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য রনি ৫০ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে না চাইলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠি দিয়ে আমাকে পিটেয়ে আহত করে এবং একই সঙ্গে আমার ভাড়ায় চালিত ইজিবাইকটিকেও ভাংচুর করে।
ইজিবাইক চালকরা জানান, জাহাঙ্গীরের উপর নির্যাতন ও তার ইজিবাইকটি ভাংচুরের ঘটনায় সমিতির সদস্যদের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরী মিটিং করা হয়। মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি ও সড়ক অবরোধের কর্মসূচী নেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করে জানান, প্রতিনিয়ত বাস মালিক সমিতির লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা আমাদের ইজিবাইক চালকরা নির্যাতিত হচ্ছে। তাদের টাকা দিলেই ছেড়ে দেয়। টাকা না দিলে নির্যাতন শুরু করে দেয়। আমাদের জীবিকার একমাত্র পত্র ইজিবাইক। তাদের আমাদের প্রধান সড়ক না হলেও পকেট সগড় গুলোতে চলাচলের সুবিধা দিতে হবে। আমাদের এ দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
মেহেরপুর জেলা ইজিবাইক মালিক চালক সমিতির সভাপতি জানান, ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য রনিকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন সড়ক থেকে লাঠিয়াল বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। অন্যাথায় বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচী নেওয়া হবে।
মেহেরপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রসুল বলেন, মেহেরপুর কাথুলী সড়কে ১৫টি ইজিবাইক চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ইজিবাইকরা আরো ১৫টি গাড়ি চালানোর দাবি করে তারা সড়কে জোর পূর্বক গাড়ি চালাতে গেলে আমাদের সদস্যদের সাথে তাথে বাকবিতন্ডা হয় এবং লেগুনার দুই জন চালককে পিটিয়ে আহত করে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here