হোম ভাইরাল স্কুইড গেম: যেমন ছিল প্রথম সিজন

স্কুইড গেম: যেমন ছিল প্রথম সিজন

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
6 ভিউস

নেটফ্লিক্স কাঁপানো ৯ পর্বের সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ কেটে টুকরা টুকরা করলে কিছু আবেগের বিপরীতে শুধু টাকার কথা পাবেন। অর্থসংকটে পড়া ৪৫৬ জন ৪৬ বিলিয়ন ওন (দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা) পাওয়ার আশায় জীবন বাজি রেখে প্রতিযোগিতা করে। ডিসকোয়ালিফায়েড হলে পাখির মতো গুলি করে তাদের হত্যা করে আয়োজকেরা। পরে মৃত ব্যক্তিদের হৃৎপিণ্ড আলাদা করে পাচার করে আয়োজকদের একাংশ।
এমন গল্পের সিরিজটা দেখতে দেখতে মনে পড়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত একটি খবর। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউএইচও ও আইএলওর যৌথ গবেষণার বরাত দিয়ে তারা প্রকাশ করে, ২০১৬ সালে বিশ্বে শুধু হৃদ্‌রোগেই মারা গেছে ১৯ লাখ মানুষ। আর এসব ব্যক্তির হৃদ্‌রোগের প্রধান কারণ অতিরিক্ত চাপ। অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দিয়ে হৃৎপিণ্ডটা যেন কেড়ে নেন মালিকেরা।

 

 

অর্থসংকট আর ঋণের চাপে পিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়েই জনবিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে শুরু হয় স্কুইড গেম।

দ্বীপে যাওয়ার আগে
গ্রামের বাড়ির উঠান বা স্কুলের মাঠে আঁকা কোর্ট। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে একটা একটা করে ধাপ পেরিয়ে যাওয়া! না পারলেই মারা পড়া। দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাটা একেক অঞ্চলে পরিচিত একেক নামে ও নিয়মে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ খেলার নাম স্কুইড গেম।
একই নামের ওয়েব সিরিজে নির্মাতা দর্শককে শৈশবে ফিরিয়ে নিতে আরও রেখেছেন মার্বেল, গ্রিন লাইট রেড লাইটের মতো খেলা। শৈশবে খেলায় টিকতে না পারলে আপনাকে মরতে হতো (কাল্পনিক অর্থে)। সিরিজে মারা হয় গুলি করে।
বাস্তবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে টাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। অথচ এমন গল্পের সিরিজের ভাবনা যখন নির্মাতা হং দুং ইয়ক শেয়ার করেন, তখন ‘মাত্রাছাড়া কাল্পনিক’ এই দোহাই দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক প্রযোজক। তা–ও এক দশকের বেশি হয়ে গেছে। হতাশ হয়ে চিত্রনাট্য লেখাই বন্ধ করে দেন হং দুং। তখন মা আর দাদির সঙ্গে থাকতেন তিনি। হাতে টাকা না থাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন সাধের ল্যাপটপ।
মাঝে হং দুং ইয়কের আইডিয়ার কাছাকাছি গল্পে ২০১৪ সালে জাপানে নির্মিত হয় ‘অ্যাজ দ্য গডস উইল’, ২০২০ সালে ‘অ্যালিস ইন বর্ডারল্যান্ড’, ব্রাজিলে ২০১৬ সালে ‘৩%’।

তবে অনেক আলোচনায় বলা হচ্ছে, হং দুং ইয়ক ‘স্কুইড গেম’–এর আইডিয়া পান জাপানিজ অ্যানিমেশন সিরিজ ‘কাইজি: আলটিমেট সারভাইভার’ (২০০৭-২০০৮) দেখে। এই ২০০৭-২০০৮ সালেই গোটা বিশ্বে দেখা দিয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।

বিচ্ছিন্ন দ্বীপে
মোট ৪৫৬ জন খেলোয়াড়। একেকজনের একেক রকম সংকট। মিল শুধু একটাই, প্রত্যেকেরই একসঙ্গে অনেক টাকা চাই। টাকার অভাবে কারও মাথার টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে না, কেউ দেউলিয়া, কেউ ছোট ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, কারও আবার টাকার অভাবে হচ্ছে না একটা ‘পারফেক্ট লাইফ’।

ঋণগ্রস্ত অসহায় এসব মানুষের মরণখেলার দর্শক কয়েকজন সম্পদশালী। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে খেলা দেখতে আসবে তারা। সিরিজে তাদের পরিচয় ‘ভিআইপি’। প্রথম ধাপের কয়েকটি খেলায় ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে ততক্ষণে মারা পড়েছে অনেক।

পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজেদের সংকট কাটিয়ে অবস্থার উন্নতি করতে চাওয়া আরও কিছু মানুষ তখনো টিকে আছে। গ্যালারিতে বসে মৃত্যুর খেলা দেখতে দেখতে ভিআইপিদের উল্লাস বাস্তবের সমাজে আপনার অবস্থান নিয়ে ভাবাবে। অনিয়ম করে কিছু মানুষের সম্পদশালী হওয়া আর প্রতিনিয়ত আপনার টিকে থাকার সংগ্রাম সহজেই মিলিয়ে নিতে পারবেন।

সময়মতো ক্লিক
মুক্তির পর অল্প দিনের মধ্যেই রেকর্ড ভাঙে ‘স্কুইড গেম’। হয়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি দেখা নেটফ্লিক্স সিরিজ। অবাস্তব একটা গল্প এত মানুষকে টানল কেন?
ব্রিটিশ দৈনিক ‘গার্ডিয়ান’ এক নিবন্ধে বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ১০ বছর পর মানুষ একটা সিরিজ দেখতে বসেছে, যার মূল বার্তা, ‘আমি কি কখনো এত ঋণ শোধ করতে পারব? মৃত্যুর সঙ্গে খেলা কি সহজ হবে না?’ সিরিজের গল্পকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে করোনাকাল। কাজ হারিয়ে বা সময়মতো বেতন না পেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখনো ঘুমাতে যান বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। আর এ কারণেই সিরিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলানো সহজ হয়, তা যতই অবাস্তব বা কাল্পনিক হোক। স্বপ্নে বা কল্পনায় টাকা পাওয়াতেও শান্তি আছে।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন