হোম বিনোদন সিজোফ্রেনিয়া কী প্রভাব ফেলে যৌনজীবনে

সিজোফ্রেনিয়া কী প্রভাব ফেলে যৌনজীবনে

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
33 ভিউস

সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে এসব প্রভাব কমানোর জন্য ওষুধ, থেরাপি ও দৈনন্দিন সহায়তার ধরনও ব্যক্তিভেদে আলাদা। তবে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় সবার ক্ষেত্রে রোগটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। এমনকি তাদের যৌনজীবনও নানাভাবে প্রভাবিত হয়।

সিজোফ্রেনিয়া একটি বহুল পরিচিত স্নায়বিক-মানসিক রোগ। বিশ্বের এক শতাংশের কিছু কম মানুষ রোগটিতে ভুগছেন। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তদের দ্বৈত সত্তা থাকে, তারা বিপজ্জনক ও উগ্র হয়ে ওঠেন। তবে এসব ধারণা মোটেই সঠিক নয়।

সিজোফ্রেনিয়াকে এখনও খুব ভালো করে ব্যাখ্যা করা যায়নি। কিশোর বা যুবা বয়সের শুরুতে রোগটির আক্রমণের সময় আক্রান্ত ব্যক্তি বা চিকিৎসক বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার লক্ষণ ভেবে ভুল করেন।

রোগের মাত্রা বাড়তে থাকলে রোগী আকস্মিক বা নিয়মিত হ্যালুসিনেশনে ভোগেন। অনেকের কথাবার্তা ও চিন্তাভাবনায় অসংগতি দেখা যায়। অন্য মানুষের উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপ নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরনের ভুল ধারণা তৈরি হয়।

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরা বিভ্রম ও বাস্তবতার পার্থক্য সহজে বুঝতে পারেন না। অনেকে মনে সারাক্ষণ জেঁকে থাকে নিরানন্দ, কেউ কেউ আবার নিজেদের আবেগকে প্রকাশ বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জটিলতা অনুভব করেন অনেকে।

সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে এসব প্রভাব কমানোর জন্য ওষুধ, থেরাপি ও দৈনন্দিন সহায়তার ধরনও ব্যক্তিভেদে আলাদা। তবে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় সবার ক্ষেত্রে রোগটি দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। এমনকি তাদের যৌনজীবনও নানাভাবে প্রভাবিত হয়।

গবেষকেরা বলছেন, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্তরাও আর সব মানুষের মতোই যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সঙ্গী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গগুলো এ ধরনের সম্পর্ক তৈরি বা অব্যাহত রাখতে বাধা দেয়।

যারা সঙ্গী খুঁজে পান তারা জানিয়েছেন, উপসর্গের কারণে তারা যৌন আকর্ষণ অনুভব করতে বা যৌনতার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিতে সমস্যায় ভোগেন। যৌন চাহিদা প্রকাশেও মানসিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধের কারণে অনেকের কামশক্তি, যৌন সংবেদনশীলতা ও অরগাজমে সমস্যা হতে পারে।

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত অনেকের যৌনতার অনুভূতি আবার প্রচণ্ড তীব্র (হাইপারসেক্সুয়ালিটি) হতে পারে। এই বৈশিষ্ট্য থেকে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও যৌন রোগে ভোগার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব।

সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্তদের জন্য যৌনতা ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামলানো কঠিন হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছুদিন আগ পর্যন্তও তেমন মাথা ঘামাননি। অনেক চিকিৎসক রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতেও আগ্রহী নন। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক জার্নাল ও পেশাদার গ্রুপে অনেকে বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য পাবলিক ফোরামেও খোলাখুলি আলোচনা শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘লিভিং ওয়েল উইদ সিজোফ্রেনিয়া’ এর প্রতিষ্ঠাতা লরেন কেনেডি সিজোফ্রেনিয়াকে মেনে নিয়েই জীবনকে অনেকটা স্বাভাবিক রেখেছেন। লরেনের সঙ্গে বেশ দীর্ঘ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তার সঙ্গী রব লিম। সম্প্রতি এই দুজন নিজেদের যৌনজীবনে সিজোফ্রেনিয়ার প্রভাব এবং মানিয়ে চলার কৌশল নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন