হোম বাংলাদেশ ব্লেজারের বাজার রমরমা, সামাল দিচ্ছেন ছোট উদ্যোক্তারা

ব্লেজারের বাজার রমরমা, সামাল দিচ্ছেন ছোট উদ্যোক্তারা

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
15 ভিউস

ব্লেজার প্রস্তুতকারীরা বলছেন, এক দশক আগেও দেশে রেডিমেড ব্লেজার-কোট বা স্যুটের চল ছিল না খুব বেশি। ওই সময় টেইলার্সে বানানো হতো এগুলো। কিছুসংখ্যক বিদেশ থেকে আমদানি হতো। কিন্তু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও রুচির পরিবর্তনে দেশে বড় বাজার তৈরি হয়েছে ব্লেজারের। দেশের ব্র্যান্ড হাউসগুলো তাদের নিজস্ব কারখানায় ব্লেজার তৈরি করে। যেগুলো বিক্রি হয় তাদের শোরুমে। কিন্তু সারাদেশের আনাচে-কানাচে বিক্রি হওয়া রেডিমেড ব্লেজারগুলোর বেশির ভাগ ছোট কারখানার।

এমদাদ খান বলেন, যখন আমি কারখানা শুরু করেছিলাম, তখন বছরে দেড় থেকে দুই হাজার ব্লেজার ও কোর্ট তৈরি করতাম। এখন কাজ ১০ গুণ বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে দুই বছর খারাপ না কাটলে চাহিদা আরও বাড়তো।

 

এ উদ্যোক্তার ধারণা, ২০-২৫ শতাংশ হারে বাড়ছে ব্লেজার মার্কেট।

তিনি বলেন, বড় বাজার, তবুও এ খাতে বড় কোনো উদ্যোক্তা নেই। বেশিরভাগ কারিগর এখন কারখানার মালিক হয়েছেন। ফলে ছোট ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো দেশে ব্লেজারের চাহিদার প্রায় পুরোটা যোগান দিচ্ছে।

‘দেশে প্রায় শতাধিক কারখানার মধ্যে ২৫-৩০টি কারখানা বড় বা মাঝারি। যারা শুধু ব্লেজারই তৈরি করে। বিক্রি করে ছয় মাস। এমন আরও বহু কারখানা রয়েছে, যারা শুধু মৌসুমে ব্লেজার বানায়। অন্য সময় প্যান্টসহ অন্যান্য রেডিমেড পোশাক তৈরি করে।’

যদিও দেশে ব্লেজারের কতগুলো কারখানা রয়েছে, কত টাকার বাজার কিংবা বিক্রি কেমন হচ্ছে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই সংস্থা বা ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে।

 

 

একই এলাকায় আরেকটি ব্র্যান্ড ‘রায়হান ফ্যাশন’। কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগরে তাদের কারখানায় অর্ধশত মেশিনে ১২ মাস ব্লেজার বানানো হয়। কাজ করেন কয়েকশো শ্রমিক-কর্মচারী। এ ব্র্যান্ডের ব্লেজার পাইকারি বিক্রি হয় রাজধানীসহ সারাদেশের রেডিমেড মার্কেটগুলোতে।

রায়হান ফ্যাশনের মালিক সাইদুর রহমানও খুব ছোট উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসাটি। এখন তিনিও কারিগর থেকে বড় কারখানার মালিক বনে গেছেন। দেশে ব্লেজারের বাড়বাড়ন্ত বাজারের কারণে এখন এসব ব্যবসায়ী ‘ভালো আছেন’।

 

এমন ছোট উদ্যোক্তারাই সামাল দিচ্ছেন ব্লেজারের বড় বাজার।

এ ধরনের অর্ধশত ব্লেজারের কারখানা রয়েছে কেরানীগঞ্জে। সবচেয়ে বড় কারখানাগুলো রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে। তবে তাদের সংখ্যা কেরানীগঞ্জের তুলনায় কম। এছাড়াও শনির আখড়া, কামরাঙ্গীরচর, ইসলামবাগ ও সাভারে রেডিমেড ব্লেজারের কারখানা গড়ে উঠেছে। যেগুলো থেকে সারাদেশে সরবরাহ করা হয় ব্লেজার।

 

 

 

 

এ বিষয়ে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কিছু কারখানা এখন ব্লেজার ও স্যুট রপ্তানি করছে। তবে চাহিদা কম থাকায় তার পরিমাণ খুব বেশি নয়।

বাজার রমরমা
সরেজমিনে এলিফ্যান্ট রোড, কেরানীগঞ্জ থেকে শুরু করে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, পীর ইয়েমেনী মার্কেট, রমনা প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায় ব্লেজারের বাজার রমরমা।

এখন এসব বাজারে পুরোদস্তুর আনুষ্ঠানিক ব্লেজারের সঙ্গে নিত্যনতুন ক্যাজুয়াল ব্লেজারই বেশি চলছে। সাধারণ কাপড়ের পাশাপাশি ডেনিম কাপড়ের তৈরি নানা ধরনের ব্লেজার রয়েছে। নতুন করে আবার এসেছে মখমলের নকশা করা ব্লেজার। সব ধরনের ব্লেজারই দেশে তৈরি।

রাজধানীর রমনা প্লাজায় ব্লেজার হাউসের স্বত্বাধিকারী এহসানুল বাশার বলেন, কম দামে ভালো পণ্য হলো দেশে তৈরি ব্লেজার। যারা খুব এক্সক্লুসিভ চান তারা এসব ব্লেজার কিনবেন না। তবে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এসব ব্লেজার কিনছেন।

তিনি বলেন, দেশে তৈরি হচ্ছে বলে এক-দুই হাজার টাকার মধ্যে ব্লেজার পরতে পারে মানুষ। যা বানাতে আগে হাজার হাজার টাকা খরচ হতো।

ফারাক দরদামে
মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, ব্লেজারের দাম পড়ছে ১৮শ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা। এর মধ্যে গ্যাবার্ডিন কাপড়ে তৈরি ব্লেজারের দাম দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মখমলের ব্লেজারের দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। আড়াই থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে মোটা সুতি কাপড়ের ব্লেজারের দাম। যদিও কারখানা ঘুরে এসব ব্লেজারের দাম বেশ কম দেখা গেছে। যা মার্কেটে এসে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।

দামের বিষয়ে রায়হান ফ্যাশনের মালিক সাইদুর রহমান বলেন, পাইকারি ব্লেজার এক থেকে দুই হাজারের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। কিছু ব্লেজার তিন হাজার টাকা পর্যন্ত যায়, সেগুলো খুব এক্সক্লুসিভ কাপড়ের। সাধারণত আমরা যেসব ব্লেজার বিক্রি হতে দেখি অধিকাংশ দুই হাজার টাকার নিচে।

দেশের মানুষের আর্থিক সামর্থ্য আগের চেয়ে বেড়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পরিবর্তন এসে রুচির। যার ছাপ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। এখান থেকে এক দশক আগেও ব্লেজার-স্যুট পরা বা বানানো ছিল অনেকটা আভিজাত্যের। এখন সেটি পরিণত হয়েছে ফ্যাশনে। তাই পরিবর্তন এসেছে কাপড়, ডিজাইন, দাম ও সহজলভ্যতায়। প্রতিনিয়ত বাড়ছে উদ্যোক্তা, গড়ে উঠছে নতুন নতুন কারখানা। তবে চাহিদা বাড়লেও এ খাতে এগিয়ে আসছে না বড় কোনো উদ্যোক্তা। অনেকের মতে হাজার কোটি টাকার এ বাজার সামাল দিচ্ছেন ছোট উদ্যোক্তারাই।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের একটি কারখানায় কাজ শেখেন এমদাদ খান। এক দশক আগে নিজেই গড়ে তোলেন কারখানা। রেডিমেড ব্লেজারের বাজারে এখন তার নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘বেটার ওয়ান’ প্রায় সবাই চেনে। কালীগঞ্জের কারখানা থেকে বছরে প্রায় ২০ হাজার পিস ব্লেজার বিক্রি করে এ ব্র্যান্ড।

 

তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, বছরে কোটি পিস ছাড়িয়ে যাবে ব্লেজারের চাহিদা। ফলে গড় দাম হিসেবে ব্লেজারের বাজার হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি হবে।

এদিকে এ খাতে আরও ভ্যালু অ্যাড করছে দেশের নামকরা ব্র্যান্ড হাউসগুলো। এমন ব্র্যান্ডেরও অর্ধশত কারখানায় তৈরি হচ্ছে ব্লেজার। আবার যাদের নিজস্ব ব্লেজার তৈরির ব্যবস্থা নেই, তারা রেডিমেড ব্লেজার প্রস্ততকারকদের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে ব্লেজার বানিয়ে নিচ্ছে। যেগুলো ব্র্যান্ডের নিজস্ব নামে বিক্রি হয়। এলিফ্যান্ট রোডের কারখানাগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্লেজার চুক্তিতে তৈরি করে।

রপ্তানিও হচ্ছে ব্লেজার-স্যুট
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তৈরি পোশাকের সঙ্গে কিছু ব্লেজার ও স্যুটও কয়েক বছর ধরে রপ্তানি হচ্ছে। তবে তার পরিমাণ অন্য তৈরি পোশাকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য নয়।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন