হোম বাংলাদেশ পাহাড়ে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী টোনাইয়া গ্রেফতার

পাহাড়ে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী টোনাইয়া গ্রেফতার

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
31 ভিউস

কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ৪টি অবৈধ বন্দুক, বেশ কিছু গুলি, গুলির খোসা, রাম দা ও অন্যান্য অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী শফি আলম ওরফে টোনাইয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

জানা গেছে, বুধবার ভোরে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ফকিরজুমপাড়া ভাণ্ডারিঝিরি নামক পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক টোনাইয়া ফকিরজুমপাড়ার মৃত বদিউল আলমের পুত্র।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মহেশখালী-কুতুবদিয়া সার্কেলের এএসপি জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালারমারছড়ার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে আলোচিত রুহুল কাদের হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে পাহাড়ের বার্মাইয়্যা ইউনুচ বৈদ্দ্যের বাড়ির পাশের আস্তানা থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ১টি ওয়ান শুটারগান, ২টি থ্রি কোয়াটারগান, ১টি দেশীয় তৈরি লম্বা বন্দুক, তিনটি কার্তুজ, দুটি রাইফেলের গুলি, বেল্টভর্তি নয়টি কার্তুজের খোসাসহ দুইটি রাম দা ও ৩টি ধারালো অস্ত্র।

দেশের কৃষির অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। বিনাধান, বিনাসরিষা, বিনাটমেটো উৎপাদনে এই ইনস্টিটিউট এনেছে প্রশংসনীয় পরিবর্তন। লবণসহিষ্ণু বিভিন্ন জাত উদ্ভাবন, পাহাড়ের ফল সমতলে চাষ, শীতের ফল গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া চাষাবাদ, বারোমাসি বিভিন্ন ফলের জাতে উদ্ভাবনসহ অনেক ক্ষেত্রে তাদের সফলতা ঈর্ষণীয়। ফল নিয়ে গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি করেছে কয়েকটি জার্মপ্লাজম সেন্টার। গবেষণাধীন প্রায় তিনশ’ জাত। আগামী তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে উন্মুক্ত করার পর্যায়ে রয়েছে এমন কয়েকটি ফল নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে সরেজমিনে থেকে কথা বলেছেন বিনার হর্টিকালচার ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম মিঠু।

বিনার মিনি জার্মপ্লাজম সেন্টারটি ঘুরিয়ে দেখিয়ে শিগগির বাজারে উন্মুক্ত করা যাবে এমন কয়েকটি উদ্ভাবন দেখান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমাদের একটি বরইয়ের জাত আছে, যেটা অনেক দেরিতে পাকবে বা খাওয়ার উপযোগী হবে। বাজারে আমরা যে বরইগুলো সাধারণত এখন পাই সেগুলো মার্চ-এপ্রিলেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এটি হারভেস্ট করা যাবে জুন-জুলাইয়ে। যখন আম শেষের দিকে তখন এ বরই পাওয়া যাবে। তিন-চারটি ধাপে এ বরইটা গাছে ধরে। যেমন এখন কোনোটা একটু বড়, কোনোটা মাঝারি, কোনোটা ছোট, আবার কোনো ডালে দেখা যাচ্ছে মাত্র ফুল আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি গাছে থাকবে। তাই খাওয়া কিংবা বিক্রির ক্ষেত্রেও এটা অন্য রকম হবে।

‘বরইয়ের স্বাদটাকে আমরা দীর্ঘায়িত করতে পারবো বলে আশা করছি। আর এটা পুরো দেশি ভ্যারাইটি। আমাদের এ বরই সর্বোচ্চ ১৭৩ গ্রাম হবে। স্বাদে টক-মিষ্টি, সোনালি রঙের। খেতে বেশ ভালো। যারা খেয়েছে সবাই পছন্দ করেছে। সামনেই আমরা জাতটা ছেড়ে দেবো।’

 

 

মহেশখালী থানার ওসি মো. আবদুল হাই জানান, অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া শফি আলম প্রকাশ টোনাইয়াকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই মোহাম্মদ মুফিজ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করে ৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

 

দেশি একটি পেয়ারার জাত নিয়ে কাজ করছে বিনা। এটাও অ্যাডভান্স লাইনে আছে। ফল খুব বড় হবে না কিন্তু কচকচে, ক্রিসপি হবে। দানাও হবে নরম, ছোট। খেতে বেশ ভালো হবে। খুব বড় হবে না। কাজি পেয়ার মতো গাল ছিলবে না। আগামী, জুন-জুলাইয়ে এটি বাজারে ছাড়ার আশা করছেন তারা। এর সর্বোচ্চ ওজন হতে পার সাড়ে তিনশ’ গ্রাম।

পেয়ারা বাগান থেকে এবার ডালিমের বাগানে প্রবেশ। সেখানে মিঠু বলেন, ডালিমের একটি জাতও আমাদের অ্যাডভান্স লাইনে আছে। ডালিম বা বেদানা আমরা বিভিন্ন নামে ডাকি। এই জাতটি আমরা ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে সংগ্রহ করেছি। এটা বেদানা গ্রুপের একটি জাত। বাংলাদেশের ডালিমের প্রধান সমস্যা হলো বিচিটা শক্ত হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রোগ-পোকামাকড়ের আক্রমণে ঠিকভাবে চাষ করতে পারি না। এই জাতটা যদি আমরা বাজারে ছাড়তে পারি তাহলে আমরা মনে করি বিদেশ থেকে আর আমদানি করতে হবে না।

‘আমাদের বারোমাসি জাতের একটি লেবু আছে, যেটি থেকে সারা বছর লেবু পাওয়া যাবে। এটিও সামনে ছাড়বো। ভারতের নদীয়া থেকে আমরা কমলার একটি জাত সংগ্রহ করেছি। এই জাতটা আমাদের মাটির জন্য বিশেষ উপযোগী। খুবই মিষ্টি এবং রসালো বেশি। চামড়াটাও খুব বেশি মোটা হয় না। একটি মাল্টাও আমরা সামনে নিয়ে আসছি। যেটার সাইজটা বেশ বড় হবে। চারশ’ গ্রামের মতো হবে। এটা রসালোও বেশি।’

স্বল্পমেয়াদি ফল জাম নিয়ে নতুন তথ্য দেন এই জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জামের কোনো ভ্যারাইটি আমাদের দেশে নেই। এখানে অনেকগুলো জামের জার্মপ্লাজম আছে। জাম খুব অল্প সময়ের ফল। জামের একটি ভ্যারাইটি আমরা সংগ্রহ করেছি। এর বীজটা খুবই ছোট এবং মিষ্টি। অনেকে বলেছে এত ভালো জাম আগে কখনো খাননি। রাজশাহী থেকে এটা সংগ্রহ করা। উনি শিক্ষক। তিনি আবার উড়িষ্যা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। জাতটা আমরা শিগগির ছেড়ে দেবো।

জার্মপ্লাজম সেন্টার নিয়ে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে মূলত আমরা এই জার্মপ্লাজম সেন্টারের কাজ শুরু করি। দেশের প্রধান ফল, অপ্রধান ফল, বিলুপ্তপ্রায় ফল যেগুলো আছে এবং দেশের বাইরের যে ফলগুলো আছে সেগুলো এক জায়গায় নিয়ে এসে ধরে রাখা। ল্যাবে কোনো একটা ফলের বীজ ধরে রাখছি। সেটা ফিল্ডেও হতে পারে। এটা ফিল্ডে রাখা। জিন থেকে জার্ম। ট্রপিক্যাল ও সাব-ট্রপিক্যাল ফলগুলো আমাদের দেশে ভালো হচ্ছে। শীতের ফলগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি।

‘এছাড়া এখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি ও গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে ২২ একর জায়গায় আরেকটি জার্মপ্লাজম সেন্টার গড়ে উঠছে। দেশের প্রধান ফল, অপ্রধান ফল, বহুস্তর বাগান নিয়েও আমরা কাজ করি।’

কর্মপদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এখানে দু’ভাবে কাজ চলে। যেমন সিলেকশনের মাধ্যমে যেটা ভালো পারফর্ম করে সেটা নিয়ে কাজ করি। আরেকটা হলো মিউটেশন ব্রিডিং। ফিজিক্যাল মিউটেশনে আমরা গামা রেডিয়েশন দেই এবং কেমিক্যাল মিউটেশনে আমরা ইথেন, মিথেন, সালফেনামাইড দিয়ে ভেতরে জেনেটিক্যাল লেভেলে পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন কোনো ভ্যারাইটি আনার চেষ্টা করি। আমাদের অনেকগুলো অ্যাডভান্স লাইন আছে।

এই মুহূর্তে বিনার কাছে তিনশ’ জাতের ১৩শ’ মাতৃগাছ আছে দাবি করে এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও বলেন, এই জাতগুলো নিয়ে আমরা গবেষণা করছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বিদেশ থেকে এগুলো সংগ্রহ করা। এই মুহূর্তে ১৯টি দেশের ৩৬ রকমের বিদেশি ফল আছে। সব ধরনের ফলই আমরা সংগ্রহ করি। ভারত, আমেরিকা, চীন, জাপান, কানাডা, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতির দেশের ফলের জাত আমাদের সংগ্রহে আছে। যেমন ভিয়েতনাম থেকে আমরা কাজুবাদাম ও কফি সংগ্রহ করেছি। মিল্ক ফ্রুট বা স্টার আপেলও আমরা সংগ্রহ করেছি।

 

 

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন