সেই এসআই লাভলীকে অব্যাহতি

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার থেকে ফেনীতে বদলি হওয়া বিতর্কিত এসআই লাভলী ফেরদৌসীকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পিবিআই ফেনী জেলার তত্ত্বাবধায়ক (এসপি) আসাদুজ্জামান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর সংসার ছেড়ে পরকীয়া প্রেমিক কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি কাইম্মারঘোনা এলাকার বেলাল আহমদের ছেলে সুদর্শন শাহজাহানকে বিয়ে করেন এসআই লাভলী ফেরদৌসী।

তার দ্বিতীয় স্বামী বেকার হওয়ায় স্বামীর হাতখরচও জোগান দিতে হয় তাকে। ফলে সরকারি বেতনে সংসারের ব্যয় পুষিয়ে উঠতে না পেরে পুলিশ রুলের পরিপন্থী কাজে পা বাড়ান এসআই লাভলী। জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে।

বিশেষ করে মামলা তদন্তে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নেওয়াসহ স্বামীকে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে গত ২৩ আগস্ট ‘ওসির ভাব নিয়ে’ মামলা তদন্ত করেন এসআইয়ের স্বামী! শিরোনামে যুগান্তর অনলাইনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে পিবিআই কর্তৃপক্ষ।

এসআই লাভলীকে বদলির পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি প্রায় এক সপ্তাহ কক্সবাজারে অবস্থান করে অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে এসআই লাভলী ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশের শৃঙ্খলা আইনে শাস্তির সুপারিশ করা হয়। কমিটির সুপারিশে এসআই লাভলীকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং পিবিআইয়ের নামে প্রতারণার শামিল। তার অপরাধের কারণে কক্সবাজার পিবিআইয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে ‘স্বামীকে দিয়ে মামলা তদন্ত ও তদন্ত কাজে স্বামীকে সঙ্গে নেওয়া’র বিষয়টি লাভলী স্বীকার করেছেন। মূলত স্বামীর লোভের কারণে লাভলী পুলিশের শৃঙ্খলা পরিপন্থী নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলেও উল্লেখ করেন পিবিআই’র এই কর্মকর্তা।

তদন্ত কমিটির দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন দায়িত্বশীল অফিসার হয়ে স্বামীকে দিয়ে মামলা তদন্ত করার ঘটনায় পিবিআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিস্মিত এবং হতবাক। এটাই তাকে চরম বিপদে ফেলেছে। এসআই লাভলী ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর অধিকাংশই সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিয়মানুসারে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়।

পিবিআই ফেনী জেলার তত্ত্বাবধায়ক (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে পিবিআই ফেনী জেলায় সংযুক্ত করা হয় এসআই লাভলী ফেরদৌসীকে। কিন্তু এর পরপরই তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। শুনেছি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি হতে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here