হোম জাতীয় ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা অর্থমন্ত্রীর

৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশা অর্থমন্ত্রীর

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
27 ভিউস

জনশুমারি প্রকল্প ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে তৈরি করা জিনিস আমরা ব্যবহার করতে চাই। সেজন্য আমরা সময় বেশি নিচ্ছি। কারণ মেড-ইন-বাংলাদেশ ইজ অ্য কনসেপ্ট, ইজ অ্য ফিলোসফি। আপনাকে বুঝতে হবে আগামী ৫০ বছরকে সামনে রেখে আমরা কিন্তু এ ধরনের ফিলোসফি ধারণ করছি। আমরা ইম্পোর্ট করে আনলে সহজেই করা যায়। কিন্তু আমরা ইম্পোর্টেড প্রোডাক্ট দেখতে চাই না। আমাদের দেশে যারা সক্ষম এগুলো তৈরির জন্য তাদের সুযোগ দিতে হবে। সে জন্যই সময় বেশি লাগছে। যাতে ভুল ভ্রান্তি না হয় সেটি দেখা। দেশীয় কোম্পানিকেই দিতে চাচ্ছি। আমরা চাই যেসব জিনিস দেশে

৫ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ ও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে, বাংলাদেশ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন। এতে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছে তা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

 

এর আগে সংসদের অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।

চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। তবে তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটটিও প্রণয়ন করা হচ্ছে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী চলমান একটি ক্রান্তিকালে। যখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাইরাসের দ্বিতীয় এবং কোথাও কোথাও চলছে তৃতীয় ঢেউ। বৈশ্বিক এ প্রাদুর্ভাবের ভরকেন্দ্র সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া মহাদেশ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে সরে আসছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

তিনি বলেন, তবে আশার কথা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক উভয়ই বাংলাদেশের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ২০২১ সালে ৬ শতাংশ ও ২০২২ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হলো ২০২১ সালে

রোড শো’র আউটকাম তো আছেই। রোড শো করার সঙ্গে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ হয় বলে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি রোড শো’র একটি কার্যকারিতা আছে। সারাবিশ্বের মানুষের আগে যে ধারণা ছিল সেটি এখন থাকবে না। এখনো বিশ্বের মানুষ মনে করে আমাদের যে অগ্রগতি, অর্জন এটা বিস্ময়ের বিষয়। এটা বিস্ময়ের বিষয় নয়, বাস্তবতা। আমি মনে করি আমরা ঠিক জায়গায় আছি।

 

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রা নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

“বিগত এক দশকে বাংলাদেশের উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কোভিড মহামারীর প্রভাবে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হলেও করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে তা হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়।”

“গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যা ছিল এশিয়ার মধ্যে সবার উপরে,” বলেন তিনি।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কোভিড পরবর্তী উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।”

অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির পরিসর ৭ দশমিক ২ শতাংশের মতো বাড়বে বলে সরকার আশা করছে।

কী কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থ বছর কম হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর কমিয়ে ধরতে হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও আসে মুস্তফা কামালের কথায়।

তিনি বলেন, “মহামারীর প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউিএবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজমান। রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে আসেনি।”

তবে প্রবাসী আয়ে গতিশীলতা এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নকে হিসাবে ধরে বিদায়ী অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমলেও ৬ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুস্তফা কামাল বলেন, “আশার কথা, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক উভয়ই বাংলাদেশের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছর বাংলাদেশ ৫ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আগামী বছর হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপন দিয়েছে, যা সরকারেরও লক্ষ্য।

 

তৈরি হয় সেগুলো আমরা বিদেশ থেকে কম ব্যবহার করবো। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো। আমরা দেখতে চাই আমরা কোন জায়গায় পৌঁছাতে পারি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিভিন্ন দেশে রোড শো করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

 

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছরে আমাদের বাজেটের আকার যেটা রয়েছে সেখানে আমাদের প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি রয়েছে ৭.২ শতাংশ। আমরা বিশ্বাস করি ৭.২ শতাংশ অর্জন করতে পারব। আপনারা জানেন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সব সময় এ বিষয়ে একটু অন্যরকম। তবে ভালো খবর হলো আমরা ৭.২ অর্জন করতে পারব। আমরা যদি কাছাকাছি সময় দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাই প্রতিটা খাতেই আমাদের প্রবৃদ্ধি আছে। ভালোভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি। আমাদের এক্সপোর্টও বেড়েছে। এক্সপোর্টে যা আশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়েছে।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন