হোম জাতীয় ১৮০০ সিসি মোটরবাইকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম ও মুরাদ হাসান

১৮০০ সিসি মোটরবাইকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম ও মুরাদ হাসান

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
33 ভিউস

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য বরখাস্তকৃত মেয়র মো: জাহাঙ্গীর আলম ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান রাতের অন্ধকারে ১৮০০ সিসি’র অত্যাধুনিক একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ছবিতে দেখা গেছে, কালো টি শার্ট পরিহিত জাহাঙ্গীর আলম সাদা রঙের মোটরবাইক চালিয়ে কোথাও যাচ্ছেন, তার পেছনে বসা আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।

 

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আর পেছনে বসে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে।

বহিষ্কৃত মেয়র ও এমপি ডা. মুরাদকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশ পেলে তাদের দু’জনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ‘ভাই ভাই’ ক্যাপশন দিয়ে ছবিটি শেয়ার করছেন।

তবে, ছবিটি গত মে মাসের। চলতি বছরের ২৩ মে জাহাঙ্গীর আলম নিজের ফেসবুক পেইজে একটি ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, আজ রাতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি মহোদয়কে মোটরসাইকেলে নিয়ে গাজীপুর সিটির চলমান উন্নয়ন কাজ দেখালাম। মূলত সেই ভিডিওর এ স্থিরচিত্রটি ভাইরাল হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ মন্তব্য করায় সম্প্রতি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ মন্তব্য ও এক চিত্রনায়িকাকে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকির একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অনেকে আরো পৃথক একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন।

তাতে দেখা গেছে, পৃথক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুরাদ হাসানের সাথে জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও তার অনুগত কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরও রয়েছেন। একটি ছবিতে জাহাঙ্গীর আলমকে মুরাদ হাসানের সাথে কোলাকুলি করতে দেখা গেছে। অপর ছবিতে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানকে (হাজী মনির) মুরাদ হাসান ও জাহাঙ্গীর আলমের সাথে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। অপর একটি ছবিতে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালকেও জাহাঙ্গীর আলম ও মুরাদের মাঝখানে দেখা গেছে।

 

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর)’র মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুরাদ হাসান ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সম্প্রতি বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম। পেছনের আসনে বসে আছেন মুরাদ হাসান। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে শেয়ার করছেন নেটিজেনরা।

সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন, মুরাদ ও জাহাঙ্গীর যে মোটরসাইকেলটিতে চড়েছেন, সেটি বাংলাদেশে চালানোর অনুমতি নেই। এটি অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া চালক ও যাত্রী কারও মাথায় হেলমেট নেই। যা নিয়ে তুমুল সমালোচনা হচ্ছে। ছবিটি প্রসঙ্গে জানা যায়, এটি প্রায় এক বছর আগে তোলা ছবি। ডা. মুরাদ গাজীপুরে গেলে তৎকালীন মেয়র জাহাঙ্গীর তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মোটরসাইকেলে করে ঘুরিয়ে দেখান।

এর আগেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে নিয়ে গাজীপুরের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম মোটরসাইকেল ছুটছেন এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বেশকিছু দিন ধরে বিভিন্ন কারণে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। কখনও বিরোধী দলের নেতাকর্মী নিয়ে আবার কখনওবা চলচ্চিত্র জগতের লোকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। তবে এবার আরও ভয়ংকর তথ্য ভেসে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি অডিও ক্লিপ। যেখানে কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অপর প্রান্তে ছিলেন চিত্রনায়ক ইমন ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মাহিকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তায় তুলে আনার হুমকি দেন। পুরো বক্তব্যে ‘অশ্রাব্য’ কিছু শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। তবে এ নিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী কিংবা মাহিয়া মাহির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর দুদিন আগেই ইউটিউবে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার পরিবারের এক নারী সদস্যকে উদ্দেশ্য করে অশালীন বক্তব্য দেন ডা. মুরাদ হাসান। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে হাস্যরস করতে করতে ওই নারীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।

মুরাদ হাসান সেই ফোনটি করেন চিত্রনায়ক ইমনকে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা এখন কোথায় আছে। পরে এক পর্যায়ে মুরাদ হাসান জানতে চান, তার সাথে কে কে আছে?

ইমন তাকে জানান, এক পরিচালকের সঙ্গে তিনি ও মাহিয়া মাহি কথা বলছেন। পরে ফোনটি মাহিকে দেন ইমন। তখন মাহীর সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মাহিকে নিয়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেখা করতে বলেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। চিত্রনায়ক ইমনকে তিনি বলেন ঘাড় ধরে যেন মাহিকে তার কাছে নিয়ে যান।

ভাইরাল হওয়া ক্লিপটি তার স্বীকার করে ইমন বলেন, ফাঁস হওয়া ফোনালাপটি সত্যি। তবে এটি সাম্প্রতিক নয়, বছর দুই আগের। এ বিষয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন চিত্রনায়ক ইমন।

ইমন বলেন, ‘একজন মন্ত্রী যখন আমাকে কল দেন আমি তো ধরবোই তাই না? কোনো ইনটেনশন নিয়ে আমি কথা বলেনি। উনি আসলে মাহীর সঙ্গে কি কি কথা বলছেন আমি তো জানতাম না। কারণ ফোনটি লাউড স্পিকারে ছিলো না। যদিও মাহীও আমাকে কিছু জানায়নি। কারণ আমরা আসলে সিনেমার মহরত নিয়ে কথা বলছিলাম। এখন অডিওটা শুনে আমি জানতে পারলাম সেদিন মাহি কতোটা বিব্রত ছিলো।’

ইমন বলেন, আপনারা তো অডিওটা শুনেছেন। আসলে আমি তো উনার মতো লোকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে পারি না। তাই উনার কথা মতো আমি বাধ্য হয়ে বলেছি, ‘হ্যাঁ, ভাই আসতেছি। দেখছি ভাই।’

ইমনের দাবি, একজন তথ্য প্রতিমন্ত্রী যেকোনও শিল্পীকেই ফোন দিতেই পারেন। কিন্তু এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি নিজেও হতাশ মাহির সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ফোনালাপ শুনে।

এ ব্যাপারে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাছাড়া নায়িকা মাহিয়া মাহি বর্তমানে অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। স্বামী রাকিব সরকারের সঙ্গে তিনি ওমরাহ পালন করতে গেছেন। এ কারণে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ভার্চুয়াল আলোচনায় নারী বিদ্বেষমূলক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তার ব্যক্তিগত। বিষয়টি নিয়ে আমি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করব।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা সিটির মেয়র-কাউন্সিলরদের সাথে মত বিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের নারী বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে দল বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য হতে পারে। আমাদের দলের বা সরকারের কোনো বক্তব্য বা মন্তব্য না। এই ধরনের বক্তব্য কেন সে দিল, অবশ্যই আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।’

জাহাঙ্গীর আলম ও মুরাদ হাসানের মোটরবাইকের ভাইরাল হওয়া আলোচিত ছবির মন্তব্যে মো. আরিফ খান নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘একই পথের পথিক।’ এস এম মশিউর রহমান লিখেছেন, ‘এ দোস্তি হাম নেহি ছোরেঙ্গে… বাই বাই’। মো. তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় লিখেছেন, ‘সবদোষ এই ১৮০০ সিসি বাইকের, এটায় যে উঠেছে সেই ক্যারিয়ার শেষ।’

এদিকে মোটরবাইকের আলোচিত ছবিটি কবেকার তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

 

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন