হোম জাতীয় স্বামীর কথার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বক্তব্যের মিল নেই: পুলিশ

স্বামীর কথার সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বক্তব্যের মিল নেই: পুলিশ

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
17 ভিউস

কক্সবাজারে নারী ধর্ষণের ঘটনায় অনেক ‘রহস্য’ পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্যুরিস্ট জোন) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে ওই নারীর পর্যটক পরিচয় নিয়েও সন্দিহান পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ  বলেন, “তার (ধর্ষণের শিকার নারী) বক্তব্যের সঙ্গে স্বামীর বক্তব্যের মিল নেই। গত কয়েক মাসের মধ্যে তারা বেশ কয়েকবার কক্সবাজার এসেছেন বলে তথ্য-উপাত্ত হাতে এসেছে। নানা হোটেল ও কটেজে তার

‘তবে তিনি (ধর্ষণের শিকার নারী) যত রহস্যময় হউক না কেন, বুধবারের ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে’, যোগ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী জানিয়েছিলেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সাহায্যের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেন। তবে পুলিশ তাকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার না করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেয়। এরপর র্যাবকে ফোন করে জানালে র্যাব ১৫ এর একটি টিম এসে তাকে উদ্ধার করে। তার স্বামী ও সন্তানকে উদ্ধার করা হয় পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে।

 

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেছি ও তার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন ৯৯৯-এ ফোন করেননি। তার স্বামী বলেছেন, তিনি একটি সাইনবোর্ডে র্যাবের নম্বর দেখে সেখানে ফোন করেন।’

 

ওই নারীর বরাত দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় তিনজন জড়িত ছিল।

আটক থাকা অবস্থায় তার স্বামী ও সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও ওই নারী আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন।

স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর র‍্যাবের সাথে যোগাযোগ করেন তার স্বামী। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীকে উদ্ধার করে র‍্যাব।

এরপর ওই নারীকে পুলিশের ওয়ান স্টপ ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসলাম।

এই ঘটনায় হোটেলের মালিককে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

এদিকে ধর্ষণে মূল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানিয়ে জানিয়েছেন মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম।

ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনকে ধরতে অভিযান চলছে।

 

এদিকে কক্সবাজার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তাদের কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজিনের আদালতে তোলা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তারা আদালতে ছিলেন বলে জানিয়েছে কোর্ট পুলিশের একটি সূত্র।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার (ট্যুরিস্ট জোন) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আদালতে তোলা হয়। তারা আদালতে ঘটনার বর্ণনা দেন। আদালতে তোলার আগে আমরা আমাদের মতো করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

এদিকে, দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

এ বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘ধর্ষণের সময় কিংবা ওইদিনে তারা ৯৯৯ নম্বরে আসা কোনো ফোন পাননি। আমি থানার অফিসারদের সঙ্গেও কথা বলেছি, তারাও জানিয়েছেন ৯৯৯ নম্বরে নারী ও তার স্বামী কেউ ফোন করেননি। ঘটনার সময় দায়িত্বরত থানার ডিউটি অফিসারও জানিয়েছেন, এমন ঘটনায় ৯৯৯ থেকে থানায় কোনো কল আসেনি। তাছাড়া ৯৯৯-এ যে কেউ ফোন করলে সেটি রেকর্ড থাকে।’

 

র‍্যাব ১৫’র কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বামী এবং আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে ওই নারী ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

ধর্ষণের অভিযোগ তোলা নারীর বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “গতকাল বিকেলে বীচে ওই ভদ্রমহিলার সাথে ওদের ছোটখাটো একটা ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটে, তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ওরা ওনাদেরকে ফলো করা শুরু করে।”

“এক পর্যায়ে কলাতলি পয়েন্ট এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় ওই নারীকে জোর করে তুলে নিয়ে আসে একটি স্থানীয় গেস্ট হাউজে। এরপর তাকে অনেক রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।”

 

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারী এবং তার স্বামীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তিন মাস ধরে কক্সবাজারে অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও এ মামলার প্রধান আসামি আশিকুল ইসলামের সঙ্গে তার (নারীর) পূর্ব পরিচয় থাকার কথাও স্বীকার করেছেন।

আশিক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং ১৬টি মামলার আসামি। তিনি মাদকসেবক ও মাদক ব্যবসায়ী। এ ধরনের একজন অপরাধীর (আশিকের) সঙ্গে বাইরের আরেকজন নারীর পরিচয় থাকা সন্দেহজনক। আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছি, যোগ করেন তিনি।

ঘটনাটি শুধু একপক্ষের কথা শুনে তদন্ত করলে হবে না। যে অভিযোগটি উঠেছে তার পক্ষে-বিপক্ষে আমরা উভয়দিক বিবেচনা করে তদন্ত কাজ চালাচ্ছি বলে জানান মহিউদ্দিন।

পুলিশ জানায়, আশিকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র, মাদকসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। সবশেষ গত ৭ নভেম্বর একটি ছিনতাই মামলায় পুলিশ আশিককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। আশিকুল ইসলামসহ এজাহারে চার জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া তিন জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- আশিকের দুই সহযোগী ইস্সল খুদা ওরফে জয় ও মেহেদী হাসান ওরফে বাবু এবং রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন। এর মধ্যে রিয়াজ উদ্দিনকে গত বুধবার রাতে আটক করে র‍্যাব। ঘটনার পর থেকে মামলার অন্য আসামিরা আত্মগোপনে আছেন। সন্ত্রাসী আশিকের সঙ্গে রিয়াজের চেনা জানা ও বন্ধুত্ব রয়েছে।

 

অবস্থানের তথ্যও মিলেছে। একেক জায়গায় তার নাম একেকভাবে লিপিবদ্ধ করা। এ কারণে তাকে প্রাথমিক দৃষ্টিতে ‘পর্যটক’ বলা যাচ্ছে না। মাসের ব্যবধানে এ নারী একাধিবার কক্সবাজার আসা এবং একেকবার একেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পেছনে অন্য রহস্য লুকিয়ে আছে। আমরা বিষয়টি খোলাসা করে জানার চেষ্টা করছি।”

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন