হোম জাতীয় সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় আসামির কেন নাম নেই, জানাল পুলিশ

সার্জেন্ট মহুয়ার মামলায় আসামির কেন নাম নেই, জানাল পুলিশ

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
20 ভিউস

রাজধানীর বনানীতে সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা গাড়িচাপায় পা হারানোর ঘটনায় কার দোষ তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাফিজ আক্তার।

আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবির প্রধান এ কথা বলেন।

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘পুলিশ সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বিষয়টি আমিও জানি। এই ঘটনায় আমাদের গুলশান বিভাগের বনানী থানায় একটি মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে।’

 

বলেছেন, তিনি নিয়মের মধ্যে থেকে এই ঘটনার বিচার চান।

“থানা একবার মামলা নেয় নাই, একশোবার যাব। যতক্ষণ মামলা নেবে না, ততক্ষণ যেতেই থাকব। আমি থেমে যাব না। আমাকে আপোষ করতে বলা হইছিল, আমি আপোষ করবো না।”

এখন দিনের বড় সময়টি তাকে হাসপাতালে কাটাতে হয়, যে কারণে তিনি রোজ থানায় যেতে পারছেন না।

ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে কথা বলার জন্য তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ধমক’ শুনতে হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বিচার পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

মামলা না নেয়া প্রসঙ্গে পুলিশ কী বলছে
সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশে অনেক সময় একজন বিচার প্রার্থী মামলা করতে গেলে থানা মামলা না নেয়ার অভিযোগ শোনা যায়।

 

ঘটনার এতদিন পর কেন মামলা হলো জানতে চাইলে ওসি বলেন, ঘটনার পরই আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তবে যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আমরা যাচাই বাছাই করে মামলা নিয়েছি। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার পর থেকে মামলার অভিযোগ নিয়ে ঘুরছিলেন তার মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও মামলা নেয়নি বলে অভিযোগও করেছিলেন তিনি।

এদিকে মধ্যরাতে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে নারী পুলিশ সার্জেন্টের বাবাকে চাপা দেয়ার ঘটনার অভিযোগ গ্রহণ না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোর জোট হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

প্রসঙ্গত, গত ২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর চেয়ারম্যান বাড়ি সংলগ্ন ইউটার্নের মুখে দুর্ঘটনার শিকার হন মনোরঞ্জন হাজং। যে গাড়ির ধাক্কায় তিনি আহত হন, সেই গাড়িটি এক বিচারপতির ছেলে চালাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিচারপতির ছেলেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গাড়িটিও জব্দ করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পরই ছাড়া পেয়ে যান ওই চালক।

 

সার্জেন্ট মহুয়ার করা মামলায় আসামির নাম না দেওয়ার বিষয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘নাম না দেওয়ার কারণ, ঘটনা কী ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কার দোষ সেটি খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিসিটিভি ফুটেজ ও মামলার বাদী তাঁর অভিযোগে আসামির নাম উল্লেখ করার পরেও অজ্ঞাত আসামি হিসেবে মামলা নেওয়ার বিষয়ে একই প্রশ্নে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘পুলিশ সার্জেন্ট মহুয়া আমাদেরই একজন সদস্য। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে তাই সাধারণ মানুষ যেভাবে বিচার পান তাঁর বিষয়টি সেভাবে দেখা হবে। তাঁর মামলার বিষয়ে গুলশান বিভাগ কাজ করেছে।’

পুলিশের পক্ষ থেকে মহুয়ার পাশে থাকবেন কি না জানতে চাইলে ডিবির প্রধান বলেন, ‘আমরা তাঁর পাশে অবশ্যই আছি। সে তো আমাদেরই লোক। তবে আইনে যা হয়, সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের চোখে যেটা হওয়ার সেটাই হবে।’

গত ২ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি সড়কে একটি দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় আহত হন সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজং। তাঁকে উদ্ধার করে শ্যামলীর পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থার কারণে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এরপর শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মনোরঞ্জন হাজং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার। ঘটনার পর তাঁর মেয়ে মহুয়া হাজং বনানী থানায় একাধিকবার মামলা করার জন্য গেলেও পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে মানুষ। পরে বাধ্য হয়ে ঘটনার ১৪ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর মামলা নেয় বনানী থানা। মামলায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে খবর এল, গাড়িটির চালক ও বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান গত ১৪ ডিসেম্বর জিডি করেছেন।

জিডিতে দুর্ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকেই পুরো দোষ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এ ঘটনায় মনোরঞ্জন হাজংকে আসামি হিসেবে মামলা করা উচিত ছিল বলেও জিডিতে উল্লেখ রয়েছে। দুর্ঘটনার পর পর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাঈদ হাসান।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে চালকের আসনে ছিলেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে সাইফ হাসান। তাঁর স্ত্রী অন্তরা সাইফ আর বন্ধু রোয়াদও গাড়িতে ছিলেন। দুর্ঘটনার পরই প্রভাবশালীদের চাপে গাড়ি ও এর যাত্রীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। একইসঙ্গে তারা মহুয়া হাজংয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আপসের চেষ্টাও চালায়। কিন্তু মহুয়া হাজং মামলার বিষয়ে অটল থাকায় এবং গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন