হোম জাতীয় সার্জেন্ট মহুয়ার বাবাকেই ‘দায়ী করে’ বিচারপতির ছেলের জিডি

সার্জেন্ট মহুয়ার বাবাকেই ‘দায়ী করে’ বিচারপতির ছেলের জিডি

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
21 ভিউস

প্রাইভেটকারচাপায় পা হারানো সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জনের ওপরই দুর্ঘটনার দায় চাপিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সেই বিচারপতির ছেলে।

জিডিতে বিচারপতির ছেলে সাঈদ হাসান বলেছেন, তার গাড়িটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়নি। বরং বেআইনিভাবে উল্টো দিক থেকে মনোরঞ্জনই তার গাড়িতে লাগিয়ে দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর প্রাণহানির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তাই উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য এ দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব মনোরঞ্জনের ওপরই বর্তায়।

 

জিডিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় তার কোনো দোষ না থাকায় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেয়নি, গাড়িও আটক করেনি। অহেতুক হয়রানি, অপপ্রচার, মিথ্যা মামলা, মানসিক নির্যাতন, অর্থের জন্য চাপ দেওয়াসহ নানা আশঙ্কা থেকে প্রকৃত বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য তদন্তের অনুরোধ জানান।

জিডিতে ঘটনার বর্ণনায় সাঈদ হাসান উল্লেখ করেছেন, গত ২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে, মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে নেমে চেয়ারম্যানবাড়ির ইউলুপ ঘুরছিলেন তিনি। এ সময় উল্টো দিক থেকে এসে মনোরঞ্জনের মোটরসাইকেলটি তার গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি সেখানেই প্রাচীরে লেগে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনার সম্মুখীন হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তার স্ত্রীর ডান হাতের তিনটি আঙুল ফ্র্যাকচার (ভেঙে) হয়।

গত ২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি ইউলুপে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় একটি গাড়ির ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 


বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে এইচআরএফবি। এর আহ্বায়ক আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল।

সংবাদ বিবৃতিতে এইচআরএফবির জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানে মধ্যরাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক নারী পুলিশ সার্জেন্টের বাবাকে চাপা দেওয়ার ঘটনার ১২ দিন পরও অভিযোগ নেয়নি পুলিশ।

‘গণমাধ্যমের খবর, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না কর্মকর্তারা। এইচআরএফবি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

বিবৃতিতে একইসঙ্গে ভূক্তভোগীর নৃ-তাত্ত্বিক কিংবা অভিযুক্তের পারিবারিক পরিচয় কোনোভাবেই যাতে বিচারলাভের অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় এবং আলোচিত এ ঘটনা যাতে ভুক্তভোগীর পেশাগত ও পারিবারিক জীবনে কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না করে তা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নারী সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের পেশাগত জীবনে এ ঘটনা যেন কোনো প্রকার নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি না করে তা নিশ্চিত করা এবং মনোরঞ্জন হাজংয়ের সুচিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

 

মামলা নিতে সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরই আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে মামলা নিয়েছি।

এরআগে বিজিবির সাবেক সদস্যকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় তার পুলিশ সার্জেন্ট মেয়ের মামলা না নেওয়ার নিন্দা জানিয়েছিল হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

 

অভিযোগ রয়েছে, যে গাড়ির ধাক্কায় তিনি আহত হন, সেই গাড়িটি একজন বিচারপতির ছেলে চালাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে ওই চালককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ এবং পরে গাড়িটি জব্দ করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পরই ছাড়া পান ওই চালক। এ ঘটনার পর থেকে মামলার অভিযোগ নিয়ে ঘুরছিলেন তার মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং।ওসি নূরে আজম মিয়া জানান, এ ঘটনায় ‘অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি’ করে মামলা হয়েছে। আজকেই মামলাটি থানায় রুজু হয়।

মামলা নিতে সময় লাগার বিষয়ে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরই তারা অভিযোগ পেয়েছেন। কিন্তু যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। যাচাই-বাছাই করে তারা মামলা নিয়েছেন।

এর আগে ২ ডিসেম্বর রাত সোয়া ২টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি ইউলুপে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি গাড়ির ধাক্কায় মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

যে গাড়ির ধাক্কায় তিনি আহত হন, সেই গাড়িটি একজন বিচারপতির ছেলে চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে ওই চালককে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে গাড়িটি জব্দ করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পরই ছাড়া পেয়ে যান ওই চালক।

 

মামলা নিতে সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরই আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যাচাই করার প্রয়োজন ছিল। আমরা যাচাই-বাছাই করে মামলা নিয়েছি।

 

১৪ দিন ঝুলিয়ে রেখে গত ১৬ ডিসেম্বর বনানী থানা এজাহার হিসেবে নেয় মহুয়া হাজংয়ের অভিযোগ। কিন্তু শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমে আলোচনায় আসা বিচারপতির ছেলের জিডি করা হয়েছে গত ১৪ ডিসেম্বর।

বনানী থানায় করা জিডিতে হাসপাতালে ভর্তি থাকার কারণে পুলিশকে ঘটনা জানাতে দেরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া।

জিডি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর গাজী।

সাঈদ হাসান দাবি করেন, এ সংঘর্ষের পরও মনোরঞ্জন হাজংকে গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেখানে দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতাও করেন। পরে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অপারেশনের ব্যবস্থা, কেবিন বরাদ্দ, এমনকি মেডিকেল বোর্ড গঠন করাসহ যাবতীয় বন্দোবস্ত করেন।

 

ঘটনার পর থেকে মামলার অভিযোগ নিয়ে ঘুরছিলেন তার মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং।

শেষ পর্যন্ত দায়ের হওয়া মামলায় ‘অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি’ করা হয়েছে জানিয়ে ওসি নূরে আজম মিয়া বলেন, আজকেই মামলাটি থানায় রুজু হয়েছে। মামলা নম্বর ২৫।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন