হোম জাতীয় সাইক্লোন জাওয়াদ: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি সম্পর্কে সর্বশেষ যে তথ্য জানা যাচ্ছে

সাইক্লোন জাওয়াদ: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি সম্পর্কে সর্বশেষ যে তথ্য জানা যাচ্ছে

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
36 ভিউস

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলেও, গতিপথ পরিবর্তন করে সেটি বাংলাদেশের দিকে আসে কিনা, সেজন্য পর্যবেক্ষণ করছেন বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থার (ইএসসিএপি) তালিকা অনুযায়ী, এই ঝড়ের নামকরণ করেছে সৌদি আরব। আরবি শব্দ জাওয়াদ অর্থ উদার, দয়ালও কিংবা দানশীল।

শুক্রবার বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের অবস্থান?

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ বর্তমানে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে আড়াইশো কিলোমিটার দূরে রয়েছে বলে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

বর্তমানে ঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১০৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

ঝড়টি এখন ওড়িশা উপকূল ধরে পুরীর দিকে এগোচ্ছে। তবে সেটি আস্তে আস্তে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আবহাওয়াবিদরা বলছেন।

তারা ধারণা করছেন, ওড়িশা উপকূল ধরে এই ঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে এগিয়ে যাবে। তখন সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

কেন্দ্রে ঝড়টি ঘণ্টায় নয় কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কেন্দ্রের বাইরে বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ৭০-৮০ কিলোমিটার।

ঘূর্ণিঝড় কখন ভূমিতে উঠে আসতে পারে?

স্যাটেলাইট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যে গতিতে ঝড়টি এগোচ্ছে, তাতে রবিবার পাঁচই মে দুপুরের পর নাগাদ ওড়িশা বা পশ্চিমবঙ্গে উঠে আসতে পারে।

যেভাবে দেখা যাচ্ছে, এটা খুব প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে তারা বলছেন।

তবে ঝড়টি এখনো খানিকটা পূর্ব দিকে ঘুরছে। সেটা যদি আবার গভীর সাগরে চলে আসে, তাহলে সেটা আরও শক্তি সঞ্চার করতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবার ভূমিতে উঠে এলে তখন ঝড়টি ঘূর্ণিঝড় থেকে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

ভূমিতে আঘাত করার পর তার প্রভাবে অন্তত দুইদিন ধরে ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বাংলাদেশের দিকে আসার ঝুঁকি কতটা?

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ঝড়টি এখনো সাগরে থাকলেও আজ বিকালের দিকে একটি মোড় নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

”সেটি হলে টার্ন নিয়ে হয়তো কিছুটা বাংলাদেশের দিকেও এগোতে পারে। ফলে ভারতের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হলেও কিছুটা অনিশ্চয়তা আছে। এই কারণে আমরা এখনো গভীরভাবে ঝড়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আজ রাতের দিকে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।” তিনি বলছেন।

তিনি বলছেন, শনিবার বিকালের মধ্যে ঝড়টির গতিপথ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটি ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গের দিকেও এগোতে পারে, আবার গতিপথ পরিবর্তনও করতে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখন দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
বৃষ্টিপাত

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এর মধ্যেই ভারত ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

আগামী দুইদিন এই বৃষ্টিপাত চলবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ।

 

ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে আজই উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওডিশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জাওয়াদ। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আজ থেকেই বৃষ্টি শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গেও। গতরাত সাড়ে ১১টা আইএমডির শেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর এটি অবস্থান করছে জাওয়াদ৷ বিশাখাপত্তনমের দক্ষিণ পূর্ব অংশ থেকে ২৫০ কিমি দূরে, পুরীর দক্ষিণ পশ্চিম অংশ থেকে ৪৩০ কিমি এবং দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পশ্চিম পারাদ্বীপ থেকে ৫১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে এই ঘূর্ণিঝড়৷

মৌসম বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে সরতে শুরু করবে। ওডিশা উপকূল হয়ে আগামী ৫ জিসেম্বর, রবিবার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি পুরী উপকূলে প্রবেশ করবে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যআন্ডফলের বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি মৌসম ভবন।

 

তবে মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ বাংলার দিকে হতে পারে। তার প্রভাবে এ রাজ্যে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জোর সম্ভাবনা৷ রাজ্যের উপকূল এলাকাগুলি থেকে ৪৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বইবে ঝড়৷ যার সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার৷

এদিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় থেকে রাজ্যবাসীকে রক্ষা করতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন৷ কন্ট্রোলরুম খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার সকালে বিদ্যুৎ ভবনে বিভিন্ন জেলার বিডিও, এসডিওদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে একথা জানালেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আজ থেকেই থোলা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম। রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের হেল্পলাইন নম্বর- ৮৯০০৭৯৩৫০৩, ৮৯০০৭৯৩৫০৪৷ সিইএসসির হেল্পলাইন নম্বর- ৯৮৩১০৭৯৬৬৬, ৯৮৩১০৮৩৭০০।

 

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন