হোম জাতীয় লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ঝালকাঠিতে মামলা

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ঝালকাঠিতে মামলা

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
18 ভিউস

আগুনে দগ্ধ ৮১ জনের মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৬ জন। ১৯ জনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। ১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এদিকে, পুড়ে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিএ থেকে জানানো হয়েছে, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এই লঞ্চে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে এক হাজার।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের হিসাব মতে লঞ্চে ৩৫০-এর মতো যাত্রী ছিল। এর বেশি থাকলে তদন্ত করে দেখা হবে।

লঞ্চঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শাজাহান খান বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদগুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং লঞ্চটি পরিদর্শন করে কাজ করছে তদন্ত কমিটি।’ তাঁর ধারণা, আগুন ক্যানটিন থেকে নয়, ইঞ্জিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে লেগেছিল।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তোফায়েল হাসানের নেতৃত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের তদন্তদল সকাল সাড়ে ১০টায় ঝালকাঠির লঞ্চঘাট এলায় এসে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শন করেন। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমসহ বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে তদন্ত করছেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দিলে আমরা জানতে পারব দুর্ঘটনার আসল কারণ। যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘ইঞ্জিন কক্ষ থেকেই আগুন লাগে। আমরা যেভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দিই, লঞ্চেও একটি ইঞ্জিন রয়েছে যেটি বাইরে ধোঁয়া ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু এটা যখন আটকে পড়ে, তখন বিস্ফোরণ হয়। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, ইঞ্জিন কক্ষ থেকেই আগুন লেগেছে।’

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্ম সচিব তোফায়েল হাসান বলেন, ‘যা কিছু দেখছি, সবই প্রাথমিক তদন্তের পর্যায়ে আছে। চূড়ান্তভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপপরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, লঞ্চের ছয়টি সিলিন্ডারের মধ্যে একটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

আগুন লাগা লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি, লঞ্চটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিল। তবে লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অনেকে বলছেন, অভিযান-১০ লঞ্চে যাত্রী ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার।

এদিকে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করেছে। তারা আজ সারা দিন সুগন্ধা নদীর সম্ভাব্য সব স্থানে লাশের সন্ধানে অভিযান চালাবে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, সুগন্ধা নদীতে স্রোতের মাত্রা বেশি। এ কারণে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এরপরও চৌকস ডুবুরি দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে।

ঢাকা থেকে বরগুনার বেতাগী রওনা হওয়া লঞ্চটিতে শুক্রবার ভোরে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় আগুন লাগে। এতে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইঞ্জিন রুম থেকে লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

এ ঘটনা তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্যরা শনিবার সকালে আগুনে পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চ পরিদর্শনে যায়। তিনতলা লঞ্চটি এখন ঝালকাঠির দিয়াকুল এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে ভেড়ানো রয়েছে।

 

সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামের লঞ্চটিতে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনায় ঝালকাঠি সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বাদী হয়ে পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন এ মামলা করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদীতে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ শতাধিক।

পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউরী এলাকার সুগন্ধা নদীতে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। নিখোঁজ আছেন শতাধিক।

আগুনে দগ্ধ ৮১ জনের মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪৬ জন। ১৯ জনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। আর ১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

আগুনে পোড়া লঞ্চ পরিদর্শনে গিয়ে শনিবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শাজাহান খান  বলেন, ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ থেকে লঞ্চে আগুন লেগেছে। এখনো লঞ্চের যে যাত্রীদের পাওয়া যায়নি, তাদের খুঁজতে কাজ করছে ডুবুরি দল। তাদের সঙ্গে নদীতে নৌকা নিয়ে নামেন নিখোঁজদের স্বজনরাও।

 



এ /আর/ এস…..

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন