হোম জাতীয় রোববার রাত থেকে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ

রোববার রাত থেকে বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
18 ভিউস

দেশে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রোববার রাত থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

দেশে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। পরবর্তী দু’দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

 

অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, রোববার দিবাগত রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যেতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে এ অবস্থা। বুধবার থেকে দিনের তাপমাত্রা আবার হয়তো কিছুটা বাড়বে।

সাধারণত কোনো বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি থাকলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আর তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

 

শনিবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ১, ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৬, চট্টগ্রামে ১৬, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৪, রংপুরে ১২ দশমিক ৬, খুলনায় ১৩ দশমিক ৩ ও বরিশালে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক-দুটি মৃদু অথবা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এই সময়ে দেশের নদী অববাহিকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

 

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে আরও দুইটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাবার পূর্বাভাসও দিয়েছেন তারা।

পঞ্চগড়ে গত পাঁচ দিন থেকে ৯ থেকে ১১ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে গোটা জেলা।

দিনে যেটুকু সূর্যের দেখা মেলে, তাতে উত্তাপ থাকে না। ফলে শীতের জবুথুবু অবস্থা মানুষের। সবচেয়ে বিপাকে আছেন বয়স্ক মানুষ আর শিশুরা।

অন্যদিকে, লালমনিরহাটে চরম বিপাকে চরাঞ্চলের মানুষ। শিরশিরে বাতাস আর ঘন কুয়াশায় আগুন জ্বালিয়ে শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করছেন শ্রমজীবী মানুষ।

কুড়িগ্রামে দিনের বেশিরভাগ সময় ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে সূর্য। বইছে হিমেল হাওয়া। দ্রুত তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।

 

দিনাজপুরে গত কয়েকদিন ধরে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। সে সঙ্গে গাইবান্ধায়ও বাড়ছে শীত। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে আছে মানুষ।

নীলফামারীতে তাপমাত্রা কমায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে যানবাহন গুলোকে চলতে হচ্ছে হেড লাইট জালিয়ে।

অন্যদিকে, বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ধারণা করা হচ্ছে দু’তিন দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে এক অংকের ঘরে নামবে।

 

আক্রান্তদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, অ্যাজমা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

সাধারণত তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মৃদু, ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি ও ছয়ের নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।

 

উল্লেখ্য, শনিবার ঢাকায় ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, চট্টগ্রামে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, খুলনায় ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বরিশালে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায়, ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি জানান, বড় কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

তাদের পূর্বাভাস, রোববার আরও কমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

 

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বাসসকে জানান, রোববার দিবাগত রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যাবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই অবস্থা বিরাজ করতে পারে। বুধবার থেকে দিনের তাপমাত্রা ফের কিছুটা বাড়তে পারে।

আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে।

 

গোটা উত্তরে ঠাণ্ডায় গুটিসুটি হয়ে পড়েছেন পথের ধারে থাকা ছিন্নমূল মানুষগুলো। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষরা শীতে কাতর হয়ে পড়েছেন এখনই।

সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষগুলোকে পথের ধারে খড়-কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে৷ এরই মধ্যে বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।

কনকনে ঠাণ্ডায় শ্রমিকরা কাজে যেতে পারছেন না। ঠাণ্ডা বাড়ায় হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি।

 

তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দু’টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন