হোম জাতীয় নতুন বছরে ভাড়াটিয়ার বিপদ বাড়াবেন ঢাকার বাড়িওয়ালারা

নতুন বছরে ভাড়াটিয়ার বিপদ বাড়াবেন ঢাকার বাড়িওয়ালারা

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
19 ভিউস

বছর শেষের আগে রাজধানীতে শুরু হয় বাড়িভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা। নতুন বছর থেকে মালিকরা ‘ইচ্ছেমতো’ বাড়িয়ে দেন ভাড়া। এক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ারা যেন নিরুপায়। আয়ের সিংহভাগ খরচ করে তারা এ নগরে থাকেন কেবল জীবিকার তাগিদে।

নতুন বছরে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার চিন্তায় বাসিন্দাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। তারা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে, এর সঙ্গে বাড়িভাড়া বেড়ে গেলে এ শহরে থাকাই দায় হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের যুক্তি, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের আয় বাড়ছে। সে কারণেই নতুন বছরে তারা ভাড়া বাড়াতে যাচ্ছেন।

 

ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের যে দাম বেড়েছে, সেই তুলনায় বাড়িভাড়া বাড়ার হার প্রায় দ্বিগুণ।

সংগঠনটির অন্য এক পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ, ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া প্রায় ৫০ শতাংশ, ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়া আয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করেন বাড়িভাড়া পরিশোধে।

রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন হাসিবুর রহমান নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বেতনের সিংহভাগ চলে যায় বাড়িভাড়া পরিশোধে। তুলনামূলক একটু কম ভাড়ায় পাব বলে অফিস থেকে অনেক দূরে বাসা নিয়েছি। তবুও ভাড়া নিয়মিত বাড়ছে আছে। নতুন বছর সামনে রেখে বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, করোনার জন্য এ বছর ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এ কারণে নতুন বছরে ভাড়া আরও এক হাজার টাকা বাড়বে।

 

১৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া হলেও গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ১৭ হাজার টাকা পড়ে যায়। বেতনের টাকায় বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, বাচ্চার খরচ চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। নতুন বছরে বাড়িভাড়া আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে বলে মালিক জানিয়ে দিয়েছেন। অফিস, সন্তানের স্কুল এদিকে। তাই অন্য কোথাও গিয়ে বাসা নেওয়া একটু কঠিন।

 

উত্তর বাড্ডা এলাকায় ১৪ হাজার টাকা নিট ভাড়ায় একটি বাসায় থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ১৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া হলেও গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ১৭ হাজার টাকা পড়ে যায়। বেতনের টাকায় বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, বাচ্চার খরচ চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। নতুন বছরে বাড়িভাড়া আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে বলে মালিক জানিয়ে দিয়েছেন। অফিস, সন্তানের স্কুল এদিকে। তাই অন্য কোথাও গিয়ে বাসা নেওয়া একটু কঠিন।

তিনি বলেন, অসহায় ভাড়াটিয়ারা প্রতিনিয়তই বাড়ির মালিকদের কাছে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। আমাদের পক্ষ নিয়ে কেউ কাজ করছেন না। নতুন বছর এলে এভাবেই মালিকরা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেন। আমরা কোণঠাসা-অসহায় হয়ে পড়ছি। মালিকরা যদি এতটা লোভী না হয়ে, কিছুটা মানবিক হলে ভাড়াটিয়ারা কোনোভাবে টিকে থাকতে পারতেন।

রাজধানীর উত্তরা এলাকার আরেক ভাড়াটিয়া আব্দুর রশিদও জানান, তিনি যে বাসায় থাকেন, সেই বাসার মালিক নতুন বছর সামনে রেখে ভাড়া আরও এক হাজার টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন