হোম জাতীয় ঢাবির হলে থাকতে পারবেন বিবাহিত ছাত্রীরাও

ঢাবির হলে থাকতে পারবেন বিবাহিত ছাত্রীরাও

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
15 ভিউস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ছাত্রীদের না থাকার নিয়মের বিধান বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে বিবাহিত মেয়েদের থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসঙ্গে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উচিত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে এই নারী সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে লক্ষ্য করলাম যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিবাহিত নারী শিক্ষার্থীদের থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গভীরভাগে উদ্বিগ্ন ও বিস্মিত।

 

কোনো ছাত্রী বিবাহিত এবং অন্তঃসত্ত্বা থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে তার সিট বাতিল হবে মর্মে বিধান জারি করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে এ বিষয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন করা হবে।

নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাড়াও রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, সামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট, কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্ট এবং সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্টকে লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।

 

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ছাত্রী হলে বিবাহিত হওয়ার কারণে কতিপয় ছাত্রীর আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সামসুন্নাহার হলের আবাসিক ছাত্রীদের সিট বণ্টন সম্পর্কিত ও অন্যান্য শৃঙ্খলামূলক নিয়মবিধির ১৬নং বিধিতে বলা হয়েছে, কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবে। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধুমাত্র বিশেষক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবে না।

তাই, অন্তঃসত্ত্বা ও বিবাহিত ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে না থাকার বিধি বাতিল চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

নোটিশে বলা হয় যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই বিধানের ফলে কার্যত বিবাহিত শিক্ষার্থীরা হলের আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। যে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন বৈষম্যমূলক বিধান থাকার বিষয়টি প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হচ্ছে।

লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮ (১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সববস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। কিন্তু বিবাহিত ছাত্রীদের জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়ম নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং সংবিধানের ২৭ এবং ২৮ নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

 

অতএব, এই লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক বিধান বাতিল করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অন্যথায় আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবো বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, আমরা জানি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্বপ্নের নাম, যাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হয়। এখানে যারা লেখাপড়া করে তারা ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে তাদের মেধা ও যোগ্যতায় ভর্তির সুযোগ পায়। যে প্রতিযোগিতায় বিবাহিত-অবিবাহিত কিংবা নারী-পুরুষ বলে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। তেমনই ভর্তির পর হলে সিট পাওয়া সব শিক্ষার্থীর সমঅধিকার।

মহিলা পরিষদ বলছে, আবাসিক হলে থাকার জন্য নারী শিক্ষার্থীদের অবিবাহিত হওয়া কোনো শর্ত হতে পারে ন। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসার আগেই অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বরং বিবাহিত হওয়ার পর যেসব মেয়েরা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যায় তাদের জীবনযুদ্ধটা আরও কঠিন। তাই বিবাহিত মেয়েদের আবাসন সংকটের সমাধান না করলে অনেক বিবাহিত মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন শুরুতেই ঝরে যাবে। এই বিধিনিষেধ নারীর উচ্চশিক্ষা লাভের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে এই বিধিনিষেধের ফলে নারীর উচ্চশিক্ষা ও মেধাবিকাশের পথ রুদ্ধ হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে সব দিক বিবেচনা করে বিবাহিত মেয়েদের হলে থাকার বিষয়ে আরোপিত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করে এর সমাধানের উদ্যোগ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।

বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রভোস্ট স্টান্ডিং কমিটি’র সভায় এ নিয়ম বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রক্টর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে বিবাহিত, মাতৃত্বকালীন অবস্থায় (অন্তঃসত্ত্বা) হলে না থাকার নিয়মটি রহিত করেছে প্রশাসন। তবে সন্তান জন্মদানের আগে ও পরে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের থাকা সমীচীন বলে মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমাদের এখানেই থামলে হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কিছু নিয়ম পরিবর্তন করার জন্য কাজ করে যাবো। নারী-পুরুষের যে অসমতা, তা দূর করতে ঢাবি থেকে যাত্রা শুরু করা হবে।’

এর আগে বুধবার সকালে ঢাবির হলে বিবাহিত ও অন্তঃস্বত্ত্বা ছাত্রীদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন বিধানের ফলে কার্যত বিবাহিত শিক্ষার্থীরা হলের আবাসিক সুবিধা গ্রহণ করে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক অসন্তোষ এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে বৈষম্যমূলক বিধান থাকার বিষয়টি প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং ২৮ (১) ও (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। বিবাহিত ছাত্রীদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়ম নারীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এবং সংবিধানের ২৭ এবং ২৮নং অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। ফলে আগামী তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আইনি প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদন করা হবে।

নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছাড়াও রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, সামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট, কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রভোস্ট এবং সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্টকে লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়।

এছাড়া আবাসিক হলে বিবাহিত মেয়েদের থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসঙ্গে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উচিত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে এই নারী সংগঠনটি।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন