হোম জাতীয় ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোন এগুচ্ছে ভারতের উপকূলের দিকে – বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে?

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোন এগুচ্ছে ভারতের উপকূলের দিকে – বাংলাদেশে কতটা প্রভাব ফেলবে?

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
30 ভিউস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি গভীর নিম্নচাপ এখন আরও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

নতুন সৃষ্টি হওয়া এই সাইক্লোনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জাওয়াদ’।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আগামীকাল নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

সাইক্লোন জাওয়াদ আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এগারশো’ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিলো।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন যে ঘূর্ণিঝড়টি শেষ পর্যন্ত ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত করলে এর প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনাসহ কিছু এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত হতে পারে।

“এখন যে অবস্থায় আছে তাতে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কিছু দেখছি না। কিন্তু আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা কঠিন। তাই আমরা সতর্কভাবেই পর্যবেক্ষণ করছি,” বলছিলেন তিনি।

তবে ভারতীয় উপকূলে আঘাত করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাবে অন্তত দু’দিন বৃষ্টিপাত কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এটির নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ায় আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর সাইক্লোনের জন্য সতর্ক সংকেতও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখন দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ইয়াস ও গুলাবের পর এবার ভারত উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে স্থানীয় সময় শনিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরেই এ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এরইমধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে রেড এলার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ভারতের দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’। ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে আঘাত হানতে যাচ্ছে এ ঘূর্ণিঝড়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ থেকে উৎপত্তি হওয়া জাওয়াদ ক্রমশই তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া দফতর বলছে, আগামী শনিবার ভোরে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ।

এর প্রভাবে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি রাজ্যে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বয়ে যেতে পারে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া।

এরইমধ্যে দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশে রেড এলার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রায় একশো রেলযাত্রা বাতিলও করা হয়েছে।

শুক্রবার থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ যেসব জেলেরা এরইমধ্যে মাছ ধরতে সাগরে নেমেছেন তাদের দ্রুত ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া অঞ্চলগুলোতে সতর্কতা জারির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

চলতি বছরের মে মাসে ইয়াস ও সেপ্টেম্বরে গুলাবের পর আবারো ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে যাচ্ছে ভারত।

ঘূর্ণিঝড় গুলাবের পর আসছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ

বর্ষাকালে এবার কোনও ঝড় সেভাবে বাংলার উপকূলে আসেনি। এপ্রিল-মে মাসে শেষ ঝড় এসেছিল ইয়াস রূপে। তারপর মাস দুয়েক আগে গুলাব তৈরি হয়েছিল বঙ্গোপসাগরে। কিন্তু তা অতি প্রবল সাইক্লোনে রূপান্তরিত হয়নি। ভারতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর তা আরব সাগরে চলে গিয়েছিল। তারপর তা নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে শাহিন নাম নিয়ে ওমানের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল।
পূর্ব উপকূলের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আরও বিপদ

পূর্ব উপকূলের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আরও বিপদ এবার বঙ্গোপসাগরের বুকে শক্তি বাড়িয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। আগামী শনিবার অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর তা উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন আবহবিদরা। তবে শেষ মুহূর্তে তা পূর্ব উপকূলের গা ঘেঁষে বেরিয়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ওড়িশা বা বাংলার বিপদ বাড়তে পারে।

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ঘূর্ণাবর্তটি ভারতের মৌসম ভবনের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ থাইল্যান্ড সংলগ্ন সাগরে একটি নিম্নচাপ অবস্থান করছে। রাতেই তা পৌঁছে যায় আন্দামান সাগরে। তারপর তা ক্রমেই পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলেই আবহবিদরা জানিয়েছেন।যা দক্ষিণ-পূর্ব এবং তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে। সেখানেই নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রবেশ করে শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে ঘূর্ণাবর্তটি।

১১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ ক্রমাগত শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হবে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার ৪ ডিসেম্বর সকালের দিকে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার থেকে ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়তে পারে। এর ফলে গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেলেও ওই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পূর্ব উপকূল অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

কোথায় কোথায় বৃষ্টি হবে, কী বলছে মৌসম ভবন মৌসম ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা উপকূলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হবে। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে অত্যধিক ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ওড়িশার কয়েকটি জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং উত্তর উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় ওড়িশার কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশাখাপত্তম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে নিম্নচাপটির সৃষ্টি হয়, যা এখন উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে।

এটি আরও পরের দিকে ঘনীভূত হয়ে শুক্রবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে এসে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপর এটি শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামীকাল অন্ধ্র ও ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত করার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি স্থলভাগে ওঠার আগেই ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে এমন সম্ভাবনাও আছে বলে তারা মনে করছেন।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন