হোম জাতীয় আলোচনা বাড়ছে ইসি নিয়ে

আলোচনা বাড়ছে ইসি নিয়ে

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
16 ভিউস

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন কমিশন

 

 

 

দায়িত্ব নেবে। সংবিধানে একটি আইনের মাধ্যমে ইসি গঠনের নির্দেশনা আছে। কিন্তু গত ৫০ বছরে কোনো সরকার এ আইন করেনি। ন

 

 

তুন ইসি গঠনের আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এবারও সংলাপে বসছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী সোমবার

 

 

 

শুরু হতে যাওয়া এ সংলাপে অংশ নেবে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। কেমন হবে নতুন ইসি- এ নিয়ে এখন আলোচনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে।

 

কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তারা পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত এই ইসি নিয়ে দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। এই কমিশনের আমলে অনুষ্ঠিত বেশ কিছু নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের পক্ষ থেকেও বর্তমান কমিশনের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এদিকে পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনকারী রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে ইসি গঠনের বিষয়ে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার দাবি জানালেও নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে তাদের জোরালো কোনো অবস্থান নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে ‘আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে’ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনে কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এর আগে প্রায় সব ইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। তাই এই
বিতর্ক এড়াতে প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান। একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরনণ করলেই এই বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
এতে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে যাকে খুশি তাকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগও বন্ধ হবে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, নতুন ইসি গঠন নিয়ে তারা কোনো মতামত বা সুপারিশ

করবেন না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ বলেন, নতুন ইসি কারা হবেন, কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ

দেওয়া হবে_ সেটা সরকারের বিষয়। এ জন্য সংসদ রয়েছে। সরকার সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

স্বাধীন বাংলাদেশে মাত্র দুই বার দুই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক সরকারের সময় আলোচনার মধ্য দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত।
প্যানেল তৈরিতে সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব :বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বে তিন সদস্যের নির্বাচন

কমিশনের আমলে দেশের নির্বাচনী আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। ওই সময়ে ইসি গঠন নিয়েও একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও পরে ওই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। ২০১১ সালের ২৯ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন হয়। এতে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অনধিক চার নির্বাচন কমিশনার নিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের বিধানযুক্ত হয়। এর আগে কমিশনের সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না।
শামসুল হুদা কমিশনের ওই প্রস্তাবের সার্চ কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকমিশন চেয়ারম্যান ও মহাহিসাব নিরীক্ষকসহ বিদায়ী সিইসিকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। এতে একজন নারী সদস্যকে রাখারও প্রস্তাব করা হয়। সংবিধানের সঙ্গে স

মন্বয় রেখে ‘দি ইলেকশন কমিশনারস (মেথড অব রিত্রুক্রটমেন্ট) অর্ডিন্যান্স’ নামে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে কমিশনারদের পদ শূন্য হওয়ার কমপক্ষে এক মাস আগে সিইসিকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল।

এছাড়াও কমিশন থেকে আকস্মিকভাবে কেউ পদত্যাগ করলে বা সরানো হলে সঙ্গে সঙ্গে সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়।

নির্বাচন কমিশনের আইন কর্মকর্তারা জানান, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংবিধানে বা দেশের প্রচলিত আইনে কোনো যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। এ এখতিয়ার প্রয়োগে রাষ্ট্রপতি স্বাধীন নন। সংবিধানের ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর

ইচ্ছা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে এ নিয়োগ দিতে হয়। যোগ্যতার শর্তাবলি না থাকায় যে কোনো ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একবার নিয়োগ পেলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ ছাড়া তাকে অপসারণের আইনগত কোনো সুযোগও নেই।
ওই প্রস্তাবে কমিশনে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কতিপয় অযোগ্যতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। এরমধ্যে রয়েছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়স, শিক্ষাগত জীবনে কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পাওয়া, আয়ের সঙ্গে জীবন-যাপন ব্যয়ের অসঙ্গতি, গণমাধ্যমে ও জনগণের

কাছে বিতর্কিত, কোনো রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ে সম্পৃক্ততা, আধা-রাজনৈতিক বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নৈতিক স্খলন বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, সরকারি চাকরি থেকে বহিষ্কৃত বা বাধ্যতামূলক অবসর, ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি।
বিশিষ্টজনের ভাবনা :সাবেক সিইসি ড. শামসুল হুদা বলেন, অনেক দেশে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন গঠন

করা হয়ে থাকে। এটি একটি ভালো কৌশল। আমরা কমিশনার নিয়োগ আইনের যে খসড়া তৈরি করে সরকারের কাছে দিয়েছিলাম, সেখানে এ প্রস্তাব ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর মত নিয়ে কমিশন গঠন করা হলে জনগণের আস্থা তৈরি হবে। সাবেক সিইসি আরও ব

লেন, নিরপেক্ষ ও আস্থাযোগ্য কমিশন গঠন করতে হলে একটি পদ্ধতি বের করতে হবে। সেটা করা সম্ভব হলে ইসির ওপর জনগণের

আস্থা তৈরি হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক মনে করেন, সংবিধানের আলোকে একটি আইন প্রণয়ন ছাড়া ইসি গঠিত হলে তা আইনি

চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তাই এ অবস্থায় ভবিষ্যতে কমিশনার হিসেবে যারা শপথ নেবেন তারা আইনি ঝামেলায় পড়তে পারেন। তার মতে, গত ৪৪ বছর সংবিধানের এই নির্দেশনা মানা হয়নি বলে, এবার পার পাওয়া যাবে না।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন