গ্রেফতার হলেন ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। গৃহবন্দি করা হয়েছে অখিলেশ যাদবকে।

সোমবার (৪ অক্টোবর) সকালে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর যাওয়ার কথা ছিল অখিলেশ যাদবের। তার আগেই তাকে গৃহবন্দি করা হয় বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় অখিলেশ যাদবের বাড়ির সামনে। গৃহবন্দি হওয়ার পরে নিজের বাড়ির সামনেই ধর্নায় বসেন অখিলেশ যাদব।

তিনি জানান, ব্রিটিশদের থেকেও বেশি জুলুম করা হয়েছে কৃষকদের ওপর। কৃষকদের ওপর এত অন্যায় এবং জুলুম ব্রিটিশরাও করেনি, যতটা বিজেপি সরকার করছে। বিজেপি সরকার সম্পূর্ণভাবে বিফল হয়েছে। সবার আগে কেন্দ্রীয় গৃহ প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। যে কৃষকদের প্রাণ গেছে, তাদের ২ কোটি টাকা সাহায্য করতে হবে এবং পরিবারের কাউকে সরকারি চাকরি দিতে হবে। যিনি গাড়ি চালিয়েছেন, তার এখনই ৩০২ ধারায় জেল হওয়া উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে লখিমপুরের ঘটনায় অখিলেশ যাদব ধর্নায় বসার পরে উত্তেজিত জনতা তার বাড়ির সামনেই পুলিশের জিপে আগুন ধরিয়ে দেয়। উত্তর প্রদেশ পুলিশ রোববারই সিদ্ধান্ত নেয় লখিমপুরে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এবং সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন নেতার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে এবং কার্যত তাদেরকে গৃহবন্দি করা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সকালে অখিলেশ যাদব লখিমপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বাড়ির সামনেই তাকে আটকে দেওয়া হয়। রাস্তায় ব্যারিকেড টেনে তার গাড়ি আটকায় পুলিশ। তারপরেই রাস্তায় বসে পড়েন তিনি। বিভিন্ন জায়গায় লাঠিচার্জ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ।

অখিলেশ যাদবের সঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের বৈঠক হলেও তিনি ধর্ণা থেকে উঠতে অস্বীকার করেন। এরপরেই গ্রেফতার করা হয় অখিলেশ যাদবকে।

এদিকে, লখিমপুর খিরিতে হিংসার ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র এবং তার ছেলে আশিসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। রোববার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ে চাপা পড়ে ২ কৃষকের মৃত্যু ও ২ কৃষককে গুলি করে মারার অভিযোগে তোলপাড় হয় উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খিরি।

ওই ঘটনার পর সংঘর্ষে এখনো পর্যন্ত ৪ কৃষক ও আরও ৪ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। লখিমপুর খিরিতে সংঘর্ষের মধ্যে রোববার অন্তত আট জন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার শত শত কৃষক জেলা কালেক্টরেট এবং সারা দেশে প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ করবে। ঘটনার পর থেকে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। কৃষক নেতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা সবাই লখিমপুর খিরিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here