মেরকেলহীন জার্মানির হাল ধরবে কে?

আগামী রোববার জার্মানিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল।

চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেলকে বলা হয় ইউরোপের স্থায়ীত্বের প্রতীক। ২০০৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় মেরকেলকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সফল নারী নেত্রী হিসেবে। তবে অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি আর চ্যান্সেলর পদের জন্য লড়বেন না।

তাই ১৬ বছর পর জার্মানি পেতে যাচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। জার্মান রাজনীতি মূলত প্রধান দুটি দলকে ঘিরেই আবর্তিত হয়। ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)। এই দুই দল গত আট বছর ধরে জোট বেঁধে দেশটিতে শাসন করছে।

অন্য দলগুলোও নির্বাচনে বেশ প্রভাব রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সিডিইউ আর এসপিডি বিগত বছরগুলো তাদের জনপ্রিয়তা হারানোর পরও নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টিও নির্বাচনে প্রভাব রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিডিইউর নেতৃত্বে মের্কেলের উত্তরসূরি হলেন ৬০ বছর বয়সী আর্মিন ল্যাশেট। তিনি মেরকেলের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০১২ সাল থেকে দলের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর তাকে সিডিইউয়ের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ল্যাশেটকে সমর্থন জানিয়েছেন মেরকেল। তবে মেরকেলের জায়গায় নিজেকে আনতে ল্যাশেটকে বেশ কাঠখড় পোড়াতে বলে জনমত জরিপে জানা গেছে। তার প্রধান প্রতিপক্ষ এসপিডির ওলাফ স্কোলজ। সম্প্রতি সপ্তাহগুলোতে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এজন্য রোববার নির্বাচনে ওলাফই জিততে যাচ্ছেন বলে জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

ল্যাশেটের মতো ওলাফেরও রাজনীতি অঙ্গনে পাদচারণা দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সাল থেকে তিনি মেরকেলের অর্থমন্ত্রী ও ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ল্যাশেটের চেয়ে ওলাফের অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ ভারি। আর এই বিষয়টিই ওলাফকে মেরকেলের নিজ দলের প্রার্থী ল্যাশেটের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।

করোনা মহামারীতে জার্মানির অর্থনৈতিক সংকট দূর করার জন্য ভূমিকা রাখায় আলোচনায় এসেছেন ওলাফ। টেলিভিশনের চূড়ান্ত নির্বাচনী বিতর্কেও নিজেকে প্রমাণ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সর্বশেষ বাধাও দূর করেছেন তিনি।

এদিকে, গ্রিন পার্টির নেতা অ্যানালেনা বেয়ারবক জার্মান রাজনীতিতে অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে জনমত জরিপেও এগিয়ে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী এই নারী রাজনীতিবিদ। ধারণা করা হচ্ছিল গ্রিন পার্টি থেকেই চ্যান্সেলর পেতে যাচ্ছে জার্মানি।

পেশাদার অ্যাক্রোব্যাট অ্যানালেনার জনপ্রিয়তা অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। তিনি নির্বাচনের দৌঁড়ে বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বলে জনমত জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অবশ্য জনমত জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বিপুল সংখ্যক জনগণ। তাই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ধারণা করাটা কঠিন হয়ে উঠেছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here