হোম আন্তর্জাতিক মোদীর নতুন গাড়ি বিস্ফোরণেও থাকবে ‘অক্ষত’

মোদীর নতুন গাড়ি বিস্ফোরণেও থাকবে ‘অক্ষত’

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
19 ভিউস

আবারও গাড়ি বদলালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পৌঁছে গেছে তার নতুন সঙ্গী ‘গার্ড’। মার্সিডিজ বেঞ্জের তৈরি এই গাড়িকে একপ্রকার ‘সুরক্ষা বর্ম’ বলা যেতে পারে। এর এমনই ক্ষমতা, একে-৪৭’র গুলি তো বটেই, দুই মিটার দূরত্ব থেকে কেউ বিস্ফোরণ ঘটালেও কিছু হবে না গাড়িটির।

 

 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সম্প্রতি গাড়িটি দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজের সামনে দেখা গিয়েছিল। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী।

 

 

 

ঝকঝকে কালো চেহারা, জানালায় কালো কাচ। চার চাকার এই লিমুজিনই মোদীর নতুন বাহন। গাড়িটির পুরো নাম মার্সিডিজ-মে ব্যাচ এস-৬৫০ গার্ড। এটি মার্সিডিজের এস সিরিজের সবশেষ সংযোজন।

বিশ্বজুড়ে মার্সিডিজ ‘এস সিরিজ’ গাড়ির বেশ কদর। কারণ, এর ব্যবহারকারীরা। মূলত রাষ্ট্রপ্রধানরাই এস সিরিজের গাড়ির ক্রেতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এস সিরিজের মতো যাত্রী-নিরাপত্তা খুব কম গাড়িই দিতে পারে।

 

 

 

গাড়ির বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী বরাবরই শৌখিন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই তার গাড়ির সংগ্রহ নজরকাড়া। প্রথমে একটি বুলেটপ্রুফ মাহিন্দ্রা স্কর্পিতে চড়তেন। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পুরোনো বাহন বদলে ফেলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর বাহন হয় বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের একটি গাড়ি।

 

 

 

পরের সাত বছরে আরও দু’বার গাড়ি বদলেছেন মোদী। প্রথমে ল্যান্ড রোভারের রেঞ্জ রোভার ভোগ গাড়িটি কেনেন। এরপর চড়েছেন টয়োটার ল্যান্ড ক্রুজার। এই গাড়ির বৈশিষ্ট্য ছিল ১৬টি ক্যামেরায় চারপাশে নজরদারির ব্যবস্থা। কিন্তু মোদীর গাড়িবহরে সেটিও দীর্ঘস্থায়ী হলো না। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী এবার ‘গার্ড’।

 

 

কী রয়েছে মোদীর নতুন গাড়িতে?
এস-৬৫০ গার্ডের বড় গুণ হলো আঘাত মোকাবিলার ক্ষমতা। এটি বর্মভেদী বুলেট থামাতে পারে। এমনকি একে-৪৭ রাইফেলের গুলির আঘাতও প্রতিহত করতে সক্ষম। গাড়িটি বিস্ফোরণ প্রতিরোধীও বটে। দুই মিটার দূর থেকে কেউ যদি ১৫ কেজির বিস্ফোরক ফাটায়, তাহলেও অটুট থাকবে মোদীর ‘গার্ড’।

এস-৬৫০’র জানালার ভেতরে রয়েছে পলিকার্বোনেটের আস্তরণ। মাইনজাতীয় বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে গাড়ির নিচের অংশেও রয়েছে বিশেষ সুরক্ষাবর্ম। যদি গ্যাস হামলা হয়, তাহলে আরোহীকে পরিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা করবে গাড়িটি।

 

 

 

এর ইঞ্জিন ৬.০ লিটার টুইন টার্বো ভি ১২, যা ৫০০ হর্সপওয়ার এবং ৯০০ নিউটন মিটার শক্তি উৎপাদন করতে পারে। তবে নিরাপত্তার কথা ভেবে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রিত হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারে।

টায়ার পাংচার করে বিপদে ফেলা যাবে না মোদীর নতুন গাড়িকে। কারণ এর চারটি চাকাই নিরেট বা ফ্ল্যাট টায়ার। এই গাড়ির নিরাপত্তাকে ভিআর-১০ স্তরের সুরক্ষা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মুহূর্তে গাড়ির জগতে এটিই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা।

 

 

 

রাতের অন্ধকারে দূর থেকে যেকোনো বস্তু চিহ্নিত করার ক্ষমতা রয়েছে এই গাড়ির। এমনকি চালকের উল্টো দিকের আয়নায় ব্লাইন্ড স্পট থেকেও যদি কেউ হামলা করতে চায়, তবে তা ধরা পড়বে চালকের চোখে।

বড় দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে গাড়ির পেছনের আসনেও রয়েছে এয়ারব্যাগ সুরক্ষা। সিট বেল্ট যেন বুকের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেয়, তার জন্য বেল্টের ভেতরেও রয়েছে এয়ারব্যাগ।

 

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য নতুন গাড়ি এল। এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী মার্সিডিজ-মেবাক এস৬৫০ গাড়িতে চড়বেন। বিভিন্ন ফিচারে সাঁজোয়া এই গাড়ির আগে রেঞ্জ রোভার, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারে চড়তেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে হায়দরাবাদ হাউজে এই গাড়ি করে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। হিমাচলেও মোদীকে তাঁর নতুন গাড়িতে দেখা যায়।

 

 

মার্সিডিজ-মেবাক এস৬৫০ গার্ড গাড়িটি ভিআর-১০ স্তরের সুরক্ষা সহ লেটেস্ট ফেসলিফ্টেড মডেল। ‘প্রোডাকশন গাড়ি’গুলির মধ্যে এই নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ের। রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্সিডিজ-মেবাক গত বছর ভারতে এস৬০০ গার্ড লঞ্চ করে। এর দাম ১০.৫ কোটি ছিল। এবং এস৬৫০ মডেলটির দাম ১২ কোটিরও বেশি হতে পারে।

 

 

একেকটি এস-৬৫০ গার্ডের দাম প্রায় ১২ কোটি রুপি। মোদীর নিরাপত্তার জন্য দুটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ব্যবহার করবেন। অন্যটি থাকবে সম্ভাব্য হামলাকারীকে বিভ্রান্ত করার জন্য।

 

 

মোদীর নতুন লিমুজিন গাড়িটি চকচকে কালো রঙের। গাড়ির কাচও কালো। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদীকে বুলেটপ্রুফ মহিন্দ্রা স্কর্পিওতে চড়তে দেখা যেত। এরপর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মোদীকে ২০১৪ সালে বিএমডাব্লুতে চড়তে দেখা যায়। এরপর রেঞ্জ রোভার, টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজারে চড়তে দেখা যায় মোদীকে। আর এবার মার্সিডিজ-মেবাক এস৬৫০ গার্ডে চড়বেন মোদী।

 

 

মার্সিডিজ-মেবাক এস৬৫০ গার্ড গাড়িটি বুলেটপ্রুফ হওয়ার পাশাপাশি ব্লাস্টপ্রুফ। দুই কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ১৫ কেজির বিস্ফোরণেও এই গাড়িটি উড়ে যাবে না। সেই ক্ষেত্রে গাড়ির বনেট উঠে যাবে। আবার মাইন বিস্ফোরণের জন্য গাড়ির নিচে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

 

 

রয়েছে। গাড়ির চারটি চাকার টায়ারই ‘ফ্ল্যাট’, অর্থাত্, টায়ার পাংচার করেও দুর্ঘটনার কবলে ফেলা যাবে না গাড়িটিকে। এই গাড়ির ইঞ্জিন ৬.০ লিটার টুইন টার্বো ভি ১২। এর শক্তি ৫০০ হর্সপওয়ার। নিরাপত্তার কথা ভেবে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রিত হবে ঘণ্টা প্রতি ১৬০ কিলোমিটারে।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন