হোম অর্থনীতি সারের দামে কঠোর নজরদারির নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

সারের দামে কঠোর নজরদারির নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
29 ভিউস

কৃষক পর্যায়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে যাতে সার বিক্রি না হয়- তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি ও তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সারের সঙ্গে ফসলের উৎপাদন এবং সরকারের ভাবমূর্তিও জড়িত। সারের কোনো রকম সংকট হলে ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়বে, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। সেজন্য দেশের কোথাও কোনোভাবেই যাতে সারের সরবরাহ এবং দাম নিয়ে ছলচাতুরি, কারসাজি ও কালোবাজারি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে সারের দাম তিনগুণ বেড়েছে। কিন্তু দেশে সরকার এ মুহূর্তে সারের দাম বাড়াবে না। বিশ্ববাজারে সারের দাম বাড়ার অজুহাতে দেশে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সুযোগ নিতে না পারে, এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

কৃষক পর্যায়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে যাতে সার বিক্রি না হয়-তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারি ও তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, সারের সাথে ফসলের উৎপাদন এবং সরকারের ভাবমূর্তিও জড়িত। সারের কোন রকম সংকট হলে ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়বে, সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে। সেজন্য, দেশের কোথাও কোনক্রমেই যাতে সারের সরবরাহ এবং দাম নিয়ে ছলচাতুরি, কারসাজি ও কালোবাজারি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এবার সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এক শ্রেণির ডিলারের কারসাজির কারণে নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার পাচ্ছে না কৃষক। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। বিষয়টি কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। অপরদিকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) জরুরি বৈঠক করেছে। এতে ডিলার পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল আলম রোববার রাতে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাছে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো ডিলার সার নেই বললে হবে না। আমরা প্রত্যেক ডিলারকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছি। এক্ষেত্রে কোনো ডিলার সার দেরিতে উত্তোলন করে সার সংকট বলে চালিয়ে দেবে সেটি হতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে বরাদ্দ পাওয়া পর কোনো ডিলার দেরিতে উত্তোলন করছে কিনা, ফেলে রাখছে কিনা সেটি দেখা হচ্ছে। তবে শেষ কথা হচ্ছে সারের কোনো ঘাটতি নেই। জানতে চাইলে বিএফএর প্রেসিডেন্ট কামরুল আশরাফ খান পুটন রোববার যুগান্তরকে বলেন, মাঠপর্যায়ে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত আছে। এরপরও কিছু ডিলার মূল্য বেশি নিচ্ছে এমন সংবাদ আসছে। ডিলার পর্যায়ে সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে আজ অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানেও দেখা গেছে সারের মজুত গত বছর এই সময় যা ছিল এবারও একই পর্যায়ে আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশের ১৭ জেলায় বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদামে এক লাখ ১১ হাজার ৮৮৬ টন সার মজুত আছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কাফকো বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে। এতে ব্যয় হবে ১৮৬ কোটি টাকা। এছাড়া বিসিআইসি কাতারের মুনতাজাত থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং এসএবিআইসি সৌদি আরব থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনবে। দাম হবে ২৮০ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মজুতের পাশাপাশি বিদেশ থেকে সার কেনা অব্যাহত আছে। এর আগের সপ্তাহে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।

এদিকে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শীতকালীন সবজি, ভুট্টা ও বোরো আবাদের এ সময়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এর ফলে এ বছর উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। রবিশস্যের বীজ বপনের সময়কাল ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে মূলত অ-ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়। চারা গজানোর পর ব্যবহার করা হয় ইউরিয়া সার। অ-ইউরিয়া সারগুলোর একটি হচ্ছে টিএসপি।

কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ দেশের কৃষকেরা তিউনিসিয়ার কালো টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার বেশি পছন্দ করেন। মাঠপর্যায়ে টিএসপি সার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলেও তাতে এখনও সেভাবে সাড়া মেলেনি। সরকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী ভর্তুকি দিয়ে এই সার আমদানি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা কৌশলে বেশি দাম নিচ্ছেন। কুড়িগ্রামের আমিন বাজার ক্রেতার মোড় বেলগাছার কৃষক নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এখন ধান পেকেছে। সারের চাহিদা কিছুটা কম।

তবে অন্যান্য অঞ্চলে অভিযোগ থাকলেও তাদের এলাকাতে সার নিয়ে সংকটের অভিযোগ এখনও পায়নি।

কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি ১ হাজার ১০০ টাকা (প্রতি কেজি ২২ টাকা), এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা কেজি) এবং ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ৮০০ টাকা (১৬ টাকা কেজি)। কৃষকরা বলছেন, প্রকারভেদে বস্তায় এবার তাদের সারের জন্য ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

রংপুরের বদরগঞ্জের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের জন্য ১০ জন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও কেউই ইউনিয়নে গিয়ে সার বিক্রি করছেন না। সবাই বদরগঞ্জ পৌর শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে সার বিক্রি করছেন। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সার নিতে পৌরসভায় আসতে হচ্ছে কৃষকদের। পাশাপাশি প্রতি বস্তায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। রাজশাহীতে ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশসহ সব ধরনের সারের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, এখনও পুরোদমে ভুট্টার চাষ শুরু হয়নি, তাতেই বেশি দাম ছাড়া সার পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সারের দাম বেশি রাখার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিয়মিত সারের বাজার মনিটর না করায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে সারের দাম তিনগুণ বেড়েছে কিন্তু দেশে সরকার এই মুহূর্তে সারের দাম বাড়াবে না। বিশ্ব বাজারে সারের দাম বেড়েছে এই অজুহাতে দেশে কেউ যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সুযোগ না নিতে পারে, এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।

গুণগতমান বজায় রেখে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের এসময় মন্ত্রী আহ্বান জানান।

সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৭০টি। মোট বরাদ্দ ২ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ১৬.২৮%। এ সময়ে জাতীয় গড় অগ্রগতি হয়েছে ১২.৫০%।

সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্বরত ড. মো: আবদুর রৌফ। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গুণগতমান বজায় রেখে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সভায় জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৭০টি। মোট বরাদ্দ দুই হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এ সময়ে জাতীয় গড় অগ্রগতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্বরত মো. আবদুর রৌফ। এসময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থাপ্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন