হোম অর্থনীতি শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের মেগা বিনিয়োগ

শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের মেগা বিনিয়োগ

কর্তৃক স্টাফ রিপোর্টার
26 ভিউস

প্রকল্পের আওতায় সম্মানি ভাতা, সরবরাহ, ভ্রমণ ও যানবাহন ভাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ পরামর্শক সেবা (ব্যক্তি), পরামর্শক সেবা (ফার্ম), পেশাগত সেবা, অন্যান্য মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ফি, চার্জ-কমিশন এবং কাস্টম শুদ্ধ ও মূল্য সংযোজন ব্যয়ও মেটানো হবে। অর্থনীতির জন্য প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ও কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলারও ব্যবস্থা থাকছে।

‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিজেদের মতো করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা- যদি প্রযুক্তি সহজলভ্য এবং সহজে হস্তান্তরযোগ্য না হয়,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা গণভবন থেকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এসব কথা বলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ১০ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সৃষ্টি করেছি। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে কৃতিত্ব প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই শিল্পোন্নয়নে (আইএসআইডি) কাজ করছি, ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি। আমরা লক্ষ্য স্থির করে দেশ পরিচালনা করি। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পর এখন আমরা ‘উদ্ভাবনী বাংলাদেশ’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সালের মধ্যে যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছি, সেটাই হবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে তিনটি বিষয় তাঁর সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে- উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর মধ্যে রয়েছে- অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পের বিকাশ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী বাহিনী সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র নয় মাসেই একটি সংবিধান প্রণয়ন করেছেন এবং এই তিনটি বিষয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন- ১৬-অনুচ্ছেদে ‘জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য দূরীকরণে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতায়ন, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ’, ১৭(খ)-অনুচ্ছেদে ‘সময়ের প্রয়োজনে শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নাগরিক সৃষ্টি’ এবং ১৮(ক) অনুচ্ছেদে ‘বর্তমান ও ভবিষ্যত নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ’।

জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু করেন এবং ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন। বিজ্ঞান ও গবেষণা ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ‘কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

’৭৫-এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়েই তিনি শিক্ষা, কৃষি ও শিল্প খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছিলেন। ১৯৭৪-১৯৭৫ অর্থবছরে নয় শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। যা ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী ১০ বছরেই বাংলাদেশ হয়ে উঠত তাঁর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’।

সরকারপ্রধান বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত, এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিল্পউদ্যোক্তাসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেছেন। তিনজন নোবেল বিজয়ী এবং ছয়জন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। দুটি সাইড ইভেন্ট ‘মুজিব-১০০ আইডিয়া কনটেস্ট’ এবং ‘মুজিব-১০০ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিবিট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৭টি দেশ থেকে মোট ৫২৫টি গবেষণাপত্র জমা হয়েছে এবং তার মধ্য থেকে ১০০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়া, সহস্রাধিক আইডিয়া থেকে ১০টিকে সেরা হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, যারা প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার পাবেন। আমি সব অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি আশা করি, এই সম্মেলনে অর্জিত জ্ঞান আমাদের শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি নিবিড় বন্ধন সৃষ্টি করবে। ফলে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সম্পর্কিত গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে বাস্তবে রূপদান করা সহজতর হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ ও সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও উপস্থাপনা প্রদর্শিত হয়।

ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোন এবং ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের সব শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

প্রায় ১০০ বছর পর পর শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিবর্তনের বিষয়টি লক্ষ্যণীয়- উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় অতিক্রম করে আমরা আজ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। এ পর্যায়ে সাশ্রয়ী এবং সবুজ ভ্যালু-চেইন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে- একদিকে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী ও সহজে ব্যবহারকারী সম্পদশালী দেশগুলো এবং অন্যদিকে উক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগে অক্ষম রাষ্ট্রপুঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, অদূর ভবিষ্যতে মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রের সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে। কিছু নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। যেমন- মেশিন মানুষের কর্মক্ষেত্রকে সংকুচিত করবে, সস্তা শ্রমের চাহিদা কমে যাবে, অসমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমবে এবং প্রযুক্তিজ্ঞান ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়বে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো যার যার গতিতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে, যদি প্রযুক্তি সহজলভ্য এবং সহজে হস্তান্তরযোগ্য না হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ যোসেফ সুম্পিটারের ‘ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন’ তত্ত্ব অনুযায়ী নিত্যনতুন উদ্ভাবনের ফলে প্রচলিত কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে ঠিকই, কিন্তু নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

সেই অনুযায়ী দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তিতে রূপান্তর করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এ.আই), রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অফ থিংস সফলভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হব।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে শিল্পখাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সন্নিবেশসহ ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য কাজ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি অতিক্রম করেছে। শিগগিরই আমরা ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সেবা চালু করছি। এটি ব্যবসার মডেল, শিক্ষা-পদ্ধতি, জীবনযাত্রার মান এবং প্রচলিত ডিজিটাল এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আইসিটি শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যেসব ক্ষেত্রে কৌশলগত ব্যবস্থা গৃহীত হবে তার মধ্যে রয়েছে ফোরআইআর উৎপাদনশীল জ্ঞান অর্জন করা, সুশাসন ও সেবা সরবরাহে আইসিটির ব্যবহার, বৈশ্বিক আইসিটি বাণিজ্যে বাংলাদেশের সমতাভিত্তিক ও পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

এছাড়াও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুবিধা নিতে ডিজিটাল অর্থনীতি, আইসিটি খাতে দক্ষতা বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিতকরণ ইত্যাদির জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা আইটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ দক্ষতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ২ হাজার ৫৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক।। চলতি সময় থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। সমগ্র বাংলাদেশের ৮ বিভাগের ৬৪টি জেলা এবং সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপ-সচিব (পরিকল্পনা অধিশাখা) মোছা. আসপিয়া আকতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এটা মূলত ডিজিটাল বিপ্লব। এ প্রকল্প এরই মধে একনেক সভায় পাস হয়ে গেছে। সরকারের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি ডিজিটাল লিডারশিপ একাডেমি স্থাপন, পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ডিজিটালাইজেশন, ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসারে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এজন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল সরকার ও ডিজিটাল অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও পরিবেশ শক্তিশালী করা হবে। একটি বণ্টনযোগ্য ও সংহত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্থাপন, ডিজিটাল অর্থনীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলিক দক্ষতা অর্জনসহ চাকরির সংস্থান করা হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, সমন্বয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় আইসিটি যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার, অফিস সরঞ্জাম ও যানবাহন কেনা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতির পরিবেশ তৈরি ও বিকাশের জন্য নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা, ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন ও স্টেকহোল্ডার ব্যবস্থাপনা করা হবে।

 

ডিজিটাল অর্থনীতির পরিবেশ তৈরি ও বিকাশে নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে সরকার। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (ফোরআইআর) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে সরকার। ‘ইনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনোমি’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সহায়ক পরিবেশ তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষতা-উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আইটি ইন্ডাস্ট্রির আয় বাড়বে। যার ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে । আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে রূপান্তরের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

০ মন্তব্য
0

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন